© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘কিছু লোক হাসপাতালে গিয়ে লাইভ-ভিডিও করে ভিউ কামাচ্ছে’

শেয়ার করুন:
‘কিছু লোক হাসপাতালে গিয়ে লাইভ-ভিডিও করে ভিউ কামাচ্ছে’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৪ এএম | ২২ জুলাই, ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ‘উৎসুক মানুষের ভিড়ে হাসপাতালে পানি, জরুরি সামগ্রী ও অক্সিজেনের গাড়িও ঢুকতে পারছে না। বিষয়টি লজ্জাজনক ও অমানবিক।’ তিনি অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছু লোক সেখানে গিয়ে লাইভ ও ভিডিও করে ভিউ কামাচ্ছে।

সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ সহকারী লিখেছেন, ‘ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালের (শহীদুল্লাহ্‌ হলের পাশে) সামনে ব্যাপকসংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড়, এতে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। ছাত্র ভলান্টিয়াররা অ্যাম্বুলেন্সের চলাচলের পথ ক্লিয়ার রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, এমেইজিং কাজ করছেন উনারা। কিন্তু উৎসুক জনতার ভিড় এত বেশি যে কোনো মতেই কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।’

ফয়েজ আহমদ আরো লিখেছেন, ‘ছাত্রদের আরেকটি টিম দরকার, দয়া করে উৎসুক জনতাকে পুরো রাস্তা থেকে (এমনকি ফুটপাত) সরিয়ে দিতে চেষ্টা করুন, আগামী কয়েক ঘণ্টা রাস্তা ফাঁকা রাখতে হবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এই দিকটায় মনোযোগ দিতে পারেন।’

বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে অ্যাম্বুলেন্স আসছে উল্লেখ করে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘বিভিন্ন হসপিটাল থেকে ন্যাশনাল বার্ন ইনস্টিটিউটে অ্যাম্বুলেন্স আসছে, কারণ অন্য হসপিটালগুলির সক্ষমতা সমান নয়, এখানে তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা আছে বিধায় সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসতে থাকবে। এমনকি হাসপাতালের পানি, জরুরি সামগ্রী এবং অক্সিজেনের গাড়িও ঢুকতে পারছে না, এক লজ্জাজনক বিষয়! অমানবিকও। বেশ কিছু লোক সেখানে গিয়ে লাইভ ও ভিডিও করে ভিউ কামাচ্ছে!’

কিছু লোক জোর করে হাসপাতালে ঢোকার চেষ্টা করছেন অভিযোগ করে বিশেষ সহকারী লিখেছেন, ‘দয়া করে হসপিটালের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করবেন না, হসপিটালের ভবনে ডাক্তার এবং নার্সরা সময়মতো লিফট এবং অপরাপর সাপ্লাই ব্যবহার করতে পারছেন না। জনতার অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে পুরা হাসপাতাল স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

ফয়েজ আহমদ আরো লিখেছেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নেগেটিভ রক্তের আর প্রয়োজন নেই, পরবর্তী সময়ে দরকার হলে জানানো হবে, যারা রক্ত দিতে চান, সেখানে না গিয়ে হটলাইনে নম্বর ও রক্তের গ্রুপ জানিয়ে রাখুন। পর্যাপ্তসংখ্যক মানুষ ইতিমধ্যেই রক্ত দিয়েছেন, তাদের সবাইকে আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। জরুরি প্রয়োজনে আমাদের রক্তদানে এগিয়ে আসার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত মহৎ।’

সর্বশেষে সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘বার্ন ভিকটিমের পিতামাতা না হলে, বিভিন্ন বার্ন হাসপাতালের জরুরি নম্বরেও কল করে সেগুলো ব্যস্ত রাখবেন না, প্লিজ!’

ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন