চাকরির প্রলোভনে অন্ত:সত্ত্বা, পল্টন থানার ওসি বরখাস্ত
চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে নওগাঁর এক নারীকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন পল্টন থানার ওসি মাহমুদুল হক। এরপর কৌশলে ঢাকায় এনে তাকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে সে।
পুলিশ সদর দপ্তর ইতোমধ্যে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের ‘সত্যতা’পায়। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তর সাময়িক বরখাস্তের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী রাতে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিভাগীয় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীর অভিযোগ, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে নওগাঁ থেকে ঢাকায় ডেকে এনে একটি হোটেলে তোলেন ওসি। সেখানে খাবারের সঙ্গে ‘চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন’ ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ সদর দপ্তরে করা লিখিত অভিযোগে ওই নারী বলেন, চেতনা ফেরার ওপর ঘটনা বুঝতে পেরে তিনি প্রশ্ন করলে মাহমুদুল হক তাকে ‘ভালোবাসার কথা, বিয়ে করার আগ্রহের কথা’বলেন।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরেও বিভিন্ন সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই নারী বর্তমানে একজন ব্যাংকে কর্মরত।
অভিযোগে ওই নারী আরো উল্লেখ করেন, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। কিন্তু মাহমুদুল হক তাকে গর্ভপাতে ‘বাধ্য করেন’। বিয়ের জন্য চাপ দিলে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে অফিসে গেলে আবারও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
এ পরিস্থিতিতে ওসি মাহমুদুলের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই নারী। তার দাবি, মাহমুদুলের বাবা প্রথমে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখলেও পরে ছেলের সঙ্গে মিলে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন।
আর কোনো উপায় না দেখে একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও ওই নারী অভিযোগে লিখেছেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মোনালিসা বেগমকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তার তদন্তের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর ওসি মাহমুদুল হককে বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নিল।
টাইমস/এমএস