যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার
মারপিটের শিকার হয়ে তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাববধায়ক (সহকারী পরিচালক) আবদুল্লাহ আল মাসুদ, সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মাসুম বিল্লাহ, সাইকো সোস্যাল কাউন্সিলর মুশফিকুর রহমান, ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর শাহানূর এবং ওমর ফারুক।
যশোর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, ১০ কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৫ জনের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা মিলেছে। এজন্য ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ওই ঘটনায় শুক্রবার যশোর কোতয়ালি থানায় মামলা করেন নিহত পারভেজ হাসান রাব্বির বাবা খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার বাসিন্দা রোকা মিয়া। মামলায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়েছে। তবে ওই মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ আল মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্য ও তাদের নির্দেশে কয়েকজন কিশোর ওই অন্তত ১৮ জনকে বেধড়ক মারপিট করে।
মারপিটের শিকার কিশোররা অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা না দিয়ে তাদের ফেলে রাখা হয়। এসময় কয়েকজন অচেতন থাকায় তারা অজ্ঞান হয়ে গেছে মনে করলেও পরে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। এরপর সন্ধ্যায় তাদের লাশ হাসপাতালে এনে রাখা হয়।
নিহতরা হলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জের তালিবপুর পূর্বপাড়ার নান্নু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন, একই জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরের ছেলে রাসেল ওরফে সুজন এবং খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি।
টাইমস/এসএন