© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

শেয়ার করুন:
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
central-desk
০১:৩৬ পিএম | ২৭ মে, ২০১৯

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেছেন ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ট্রাইবুনালের বিচারপতি এএসএইচ শামস জগলুল হোসেন এই পরওয়ানা জারি করেন। এছাড়া আগামী ১৭ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেছেন ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি এএসএইচ শামস জগলুল হোসেন এই পরওয়ানা জারি করেন। এছাড়া আগামী ১৭ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে রোববার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে ওসির বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রীমা সুলতানা বলেন, তদন্ত শেষে রোববার (২৬ মে) সাইবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (প্রত্যাহার) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন আদালত। তদন্তে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তদন্তে প্রমাণিত সব তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল জানিয়েছেন, রাফি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে এ মাসেই অভিযোগপত্র দেয়া হবে। এতে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনসহ ১৬ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ রাফিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না। ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম অনুমতি ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে নুসরাতকে জেরা এবং তা ভিডিও করেন। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অধ্যক্ষের নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

 

টাইমস/এইচইউ

মন্তব্য করুন