ধর্ষণের সাজা ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়া উচিত: ডা. জাফরুল্লাহ
ধর্ষণের আসামির ফাঁসিকে ধাপ্পাবাজি মন্তব্য করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের মতো এত বড় কাজ যারা করে, তাদের দুই মিনিটেই ফাঁসি! দুই মিনিটেই সবশেষ। তাদের ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়া উচিত। সেটা সম্রাটের (ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট) মতো যেন না হয়।
ধর্ষণের আসামির ফাঁসিকে ধাপ্পাবাজি মন্তব্য করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের মতো এত বড় কাজ যারা করে, তাদের দুই মিনিটেই ফাঁসি! দুই মিনিটেই সবশেষ। তাদের ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়া উচিত। সেটা সম্রাটের (ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট) মতো যেন না হয়।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনারা ফাঁসির আন্দোলন না করে ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের দাবি জানান। সম্রাটের মতো কারাদণ্ড নয়। পিজি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে ১১ মাস তারা ভিআইপি কেবিনে কাটায়। এ ধরনের ছলনা আর যেন না হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আমরা আপনার মঙ্গল চাই। আপনার সুশাসন চাই। আমরা চাই, আপনার মেয়েটা ধর্ষিত না হয়। তা যে হবে না তার কোনো নিশ্চিয়তা নেই। আমি চাই, আমার মেয়েও যেন ধর্ষিতা না হয়।
তিনি বলেন, আপনাদের বাড়ি ও প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করেন। আপনাদের জীবনের এতো ভয় কিসের। ভয় যদি থাকে তবে সামরিক বাহিনী দিয়ে পাহারা দেওয়ান। এই পুলিশ বাহিনীকে দেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রাখেন। প্রতিটি বাসে, রেলপথে পুলিশ দেন। রাস্তাঘাটে পুলিশ দেন। প্রতিটি গার্লস স্কুলে মেয়েদের কারাতে শেখান। ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবর্তন আনেন। নয়তো এক দিন দুই দিনের আন্দোলনে সরকারের পতন হবে।
প্রধানমন্ত্রীকে ভারতীয় লোকদের দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে চলার আহব্বান জানিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন, তার কন্যা হিসেবে আপনার কাজ হবে একটা সত্যিকার নির্বাচন দেয়া। মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়া। নয়তো ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না। আপনি অনুগ্রহ করে ভারতীয়দের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে চলাফেরা করবেন না।
জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে আপনারা যদি মনে করেন এ আন্দোলন থেমে যাবে, এটা ভুল। থামলেও আপনি শান্তি পাবেন না। বঙ্গবন্ধু কবরে বসে শান্তি পাবে না। উনি নিশ্চয়ই দুঃখ পাচ্ছেন আজকের বাংলাদেশ দেখে। আজকে আমাদের সবার দায়িত্ব আপনাকে অনুরোধ করা। আপনি রাস্তায় নেমে আসেন স্বচক্ষে দেখেন। ডিজিটাল বাদ দিয়ে আসেন এখানে, আসেন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ান। তবেই জাতি বুঝবে আপনি এ জাতীয় সমস্যা সমাধান করতে চান।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এবং পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা আলম মিন্টু, গণদলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদউদ্দিন প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আক্তার হোসেন।
টাইমস/এইচইউ