যে কারণে বদলি হলেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন

সুনামগঞ্জে সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের পর হাসপাতালের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন ডা. তউহীদ আহমেদ কল্লোল। এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের অনিয়মের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন অনমনীয়। ডা. তউহীদ আহমেদ কল্লোলের এধরণের উদ্যোগ সুনামগঞ্জে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কিন্তু যোগদানের তিন সপ্তাহ না পেরোতেই বদলী হয়ে গেলেন ডা. তউহীদ। ২৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে মৌলভীবাজারে বদলি করা হয়েছে।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. তউহীদ আহমেদ কল্লোলের জায়গায় নতুন নিয়োগ পেয়েছেন ডা. শামছুউদ্দিন। তিনি এর আগে জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ছিলেন। চলতি মাসের প্রথম দিকে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ডা. তউহীদ আহমেদ কল্লোল। যোগ দিয়েই সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ডা. তউহীদ। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে নানা উদ্যোগও নেন তিনি।

সুনামগঞ্জে সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের পর ডা. তউহীদ আহমেদ কল্লোল বলেন, সুনামগঞ্জ হাসপাতাল সম্পর্কে আগে থেকে আমার কিছু ধারণা রয়েছে। ওই ধারণার আলোকে সুনামগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

সে সময় উন্নয়ন পরিকল্পনা নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা তৈরি করে দেয়া হবে। সবাই নিয়ম মতো অফিসে আসছেন কিনা তা খতিয়ে দেখব। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাদের ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা হবে। হাসপাতালের যেসব কর্মকর্তা ব্যক্তিগত পোশাক পরে আসবেন তাকে দালাল হিসেবে চিহ্নিত করব। কারণ সবার পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানিয়ে ডা. তউহীদ আহমেদ বলেন, এখানে সৎভাবে কাজ করতে এসেছি। আমাকে সরকার যে বেতন দেয় তা দিয়েই সংসার চালাই। আমি দুর্নীতি করিনা, দুর্নীতি সহ্যও করব না। আমার বাবা উপসচিব ছিলেন। তবুও তিনি টিউশনি করে আমাকে পড়িয়েছেন। আমি যদি দুর্নীতি করি তাহলে কলঙ্কের দাগটা আমার পরিবারে লাগবে। যা আমি হতে দেব না।

এদিকে যোগদানের তিন সপ্তাহ না যেতেই সিভিল সার্জনকে বদলী করায় সুনামগঞ্জে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, হাসপাতালের অনিয়ম, ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই ডা. তউহীদকে বদলী করা হয়েছে।

 

টাইমস/এসএন/এইচইউ

Share this news on: