তৃণমূল চাঙ্গা করতে অক্টোবরের শুরুতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর

স্থবিরতা কাটিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে অক্টোবরের শুরু থেকে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে নামছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। তাই সাংগঠনিক সফরের আগেই তৃণমূলের সব ইউনিটে কাউন্সিল ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, ৫টি সংসদীয় আসন, ৯ উপজেলা, ৪ জেলা ও ৬১টি ইউনিয়নের উপনির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকার তৃণমূল নেতাকর্মীরাও প্রতিদিন এ কার্যালয়ে ভিড় করছেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে ৩১টি জেলা ইউনিটে সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগে। কিন্তু এসব ইউনিটে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি দলটি। যে কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এসব ইউনিটের পদপ্রার্থীদের আনাগোনাও চোখে পড়ার মতো।

এসব ব্যাপারে আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে অনেক ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। দলের জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে এরই মধ্যে আমরা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সম্মেলন সম্পন্ন করেছি। আশা করছি এ মাসের মধ্যেই তৃণমূল ইউনিটগুলোর কমিটি দিতে পারবো।

তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা স্থবিরতা চলে এসেছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে সারাদেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এতে দলের তৃণমূল পর্যায়ে প্রাণ ফিরবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের ৮ বিভাগে কেন্দ্রীয় কমিটির ৮টি টিম সফর করবে। এসব টিম এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নেতৃত্বে এ টিমে থাকবেন যুগ্ম সম্পাদক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকরা।

এব্যাপারে আওয়ামীলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক গণমাধ্যমকে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যখন একটা জেলায় যাবে সেই জেলায় একটা কর্মচাঞ্চলতা সৃষ্টি হবে। জেলা পার হয়ে যখন উপজেলা যাবে তখন সেখানকার নেতারা আরও প্রাণ চঞ্চলতা ফিরে পায়। কাজেই আমরা সেই বিষয়গুলো করতে চাই।

করোনা সংকটের মধ্যেও কিশোরগঞ্জের একটি উপজেলায় সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে। অন্তর্কোন্দল আছে তৃণমূলের বেশিরভাগ ইউনিটে। নেতারা বলছেন, কোন্দল নিরসনের পাশাপাশি ত্যাগী কর্মীর পদ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেন, সেন্ট্রাল কমিটি থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে লাখ লাখ সংগঠন আছে তার মধ্যে দু’একটি সংগঠনে মারামারি হলে আমি মনে করি সেটা সিরিয়াস ব্যাপার না। তবে যেখানে মারামারি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং আগামীতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যারা প্রতিহিংসা সৃষ্টি করছেন, যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

চলতি মাসের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে আওয়ামী লীগের ৫ সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এছাড়া দলকে গতিশীল করতে চলতি বছরের মধ্যেই ৭৮ সাংগঠনিক ইউনিটে সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।

 

টাইমস/এসএন

Share this news on: