সমাজটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে: মেনন
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমাদের সমাজটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আগামী ভবিষ্যৎ যে কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সমস্যাগুলো ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার হলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মেনন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমাদের সমাজটা অমানবিক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আগামী ভবিষ্যৎ যে কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে সমস্যাগুলো ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার হলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অজয় রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মেনন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা যারা ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলন করতাম, তখন অগ্রজ হিসেবে আমাদের পথ দেখাতেন অজয় রায়। একইসঙ্গে শেখাতেন হাতে-কলমে। বাস্তবতার নিরিখে বিভিন্ন লেখার মধ্য দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আমাদের পথ দেখিয়েছেন। সোচ্চার ছিলেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। এমন একটা সময়ে অজয় দার লেখনি আমরা বিশেষভাবে স্মরণ করি। কেননা, তিনি লেখনীর মাধ্যমেই আমাদের বিভিন্ন সময়ে পথ দেখিয়েছেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘অজয় রায়ের সারা জীবনের সংগ্রাম ছিল সহিষ্ণু সমাজের নির্মাণ। এই পরিস্থিতির মধ্যে অজয় রায় আমাদের অনুপ্রেরণা জোগান প্রতিনিয়ত।’
অজয় রায়ের স্মৃতিচারণা করেন তার বন্ধুভাজন সহযোগী সাবেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। অনেক রাজনৈতিক নেতাকেই দেখেছি, ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের জন্য কিছু করার কথা বলতেন সব সময়। অজয় রায় ক্ষমতায় না থেকেও মানুষের কল্যাণে ব্রতী ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারোয়ার আলী বলেন, ‘সমাজে যে বৈষম্য আছে, তা থেকে মানুষকে মুক্ত করে একটি মানবিক সমাজ নির্মাণই অজয় রায়ের লক্ষ্য ছিল। রাজনীতির বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীর মানুষকে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত করার লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন আমৃত্যু। ছিলেন এক মানবদরদি মানুষ।’
সারোয়ার আলী বলেন, মুদ্রার এক পিঠের সঙ্গে অন্য পিঠের ব্যবধান অনেক। একদিকে উন্নয়ন চলছে, সামাজিক নানা সূচকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে রাজনীতিক, প্রশাসন ও অপরাধী চক্র মিলে এক দুষ্টচক্র তৈরি হয়েছে। এর কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এখন মনে হচ্ছে, খোদ মুদ্রাটাই না অচল হয়ে যায়।
২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর প্রয়াত হন বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীল আন্দোলনের পুরোধা-ব্যক্তিত্ব অজয় রায়। ১৯২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জে তার জন্ম। তার বাবা প্রমথ নাথ রায় ভারতের বারানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি ভাষার অধ্যাপক ছিলেন। ছাত্রজীবনের মার্ক্সবাদে দীক্ষিত হন অজয় রায়।
জড়িয়ে পড়েন কমিউনিস্ট আন্দোলনে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। পার্টির মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘একতা’র সম্পাদক ছিলেন অনেক দিন। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন স্নাতকে। কারাবন্দী অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অর্জন করেন মাস্টার্স ডিগ্রি। তার লেখা অনন্য একটি বই ‘বাংলা ও বাঙালি’। ইতিহাস, অর্থনীতি ও রাজনীতির এমন অনেক গ্রন্থের লেখক তিনি।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়। ১৯৯৮ সালে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। আমৃত্যু সেই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালে ‘সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদবিরোধী মঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, মুক্তিযোদ্ধা মুকুল চৌধুরী, ডা. শাহনেওয়াজ হোসেন, ন্যাপের সংগঠক আব্দুস সাত্তারসহ বিশিষ্টজনেরা।
টাইমস/এসআই