© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জেনে নিন, কেন আপেল খাবেন

শেয়ার করুন:
জেনে নিন, কেন আপেল খাবেন
feature-desk
০৮:৫৭ এএম | ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাস্থ্যকর ফল হলো আপেল। আপেলের এই গুণের কারণেই বলা হয়ে থাকে যে, প্রতিদিন একটি আপেলই ডাক্তারকে দূরে রাখতে যথেষ্ট। অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আপনি আর অসুস্থই হবেন না, ডাক্তারের কাছেও আর দৌড়াতে হবে না।

পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাস্থ্যকর ফল হলো আপেল। আপেলের এই গুণের কারণেই বলা হয়ে থাকে যে, প্রতিদিন একটি আপেলই ডাক্তারকে দূরে রাখতে যথেষ্ট। অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আপনি আর অসুস্থই হবেন না, ডাক্তারের কাছেও আর দৌড়াতে হবে না। অনেকেই হয়ত জানেন না যে, দিনে মাত্র ২ টি আপেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে পারে।

রিডিং ইউনিভার্সিটির এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, খাদ্যতালিকায় আপেল থাকলে তা আপনার হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণার অংশ হিসাবে বিজ্ঞানীরা ৪০ জন মধ্যবয়স্ক লোককে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। অংশগ্রহণকারীদেরকে স্বাস্থ্য ও জীবনধারা সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। পরে, তাদের অর্ধেককে 8 সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন ২ টি আপেল খাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। অন্যদিকে বাকী অর্ধেককে ২ টি আপেলের রস পান করতে বলা হয়েছিল।

আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা আস্ত আপেল খেয়েছেন তাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ছিল ৫.৯৯ এবং যারা আপেলের রস পান করেছেন তাদের মধ্যে এই মাত্রা ছিল ৬.১১।

এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ডাঃ থানাসিস কাউতসোস বলেছেন- “এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় যে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনলে, যেমন দৈনিক দুটি আপেল খেলে, হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উপর তা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনও জানি না যে, আপেলের উচ্চ মাত্রার ফাইবার নাকি পলিফেনল এই ফলাফলের জন্য দায়ী। যাইহোক, এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, দানাদার খাবারই বিজয়ী হয়েছে।”

চলুন জেনে নিই, যে কারণে খাদ্য তালিকায় আপেল রাখবেন-

  • বারবার খাওয়া ফলগুলির একটি হলো আপেল, যা পলিফেনল এবং ফাইবারের সমৃদ্ধ উৎস। আপেলে বিদ্যমান বায়োঅ্যাকটিভ উপাদানগুলি অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য সুপরিচিত।
  • আপেল ফাইবার ও ভিটামিন-সি এর সমৃদ্ধ উৎস, যা খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করলে তা আপনাকে হজম ক্ষমতার উন্নতি সাধন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
  • আপেলের আঁশযুক্ত উপাদান (ফাইবার) ওজন হ্রাসের জন্যও উপকারী হতে পারে। এটি আপনাকে অনেক বেশি সময় ধরে ক্ষুধামুক্ত থাকতে সহায়তা করে, ফলে খাবার গ্রহণের মাত্রা কমে যায়। আপেল একটি স্বল্প-ক্যালোরির ফল, যা নিরাপদে ওজন হ্রাস করার খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
  • আপেলে বিদ্যমান পলিফেনল টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপকারী। আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজিক ইনফরমেশনের (এনসিবিআই) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, আপেল খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৮% কমাতে পারে। সম্ভবত এর কারণ হলো- আপেলে থাকা পলিফেনল, যা অগ্ন্যাশয়ের বিটাসেলের কোষগুলিতে ক্ষতি রোধ করতে পারে। এই বিটাসেলগুলি ইনসুলিন তৈরির জন্য দায়ী।

  • আপেলে পেকটিন থাকে, এটি এক ধরণের ফাইবার, যা প্রাইবায়োটিক হিসাবে কাজ করে এবং অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে। প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক দুটি উপাদানই আপেলে পাওয়া যায়। যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য এবং হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য কার্যকর বলে প্রমাণিত।
  • আপেলের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আপনার ফুসফুসকে জারণজনিত ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। ৬৮ হাজার নারীর উপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত আপেল খেয়েছিলেন তাদের হাঁপানির ঝুঁকি কম ছিল।

সব মিলিয়ে এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, আপেল প্রকৃতপক্ষে অন্যতম একটি স্বাস্থ্যকর ফল। এটি হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ওজন হ্রাস, হজম শক্তি বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে সক্ষম। ফলটি থেকে সর্বোচ্চ উপকার লাভের জন্য প্রতিদিন ১-২ টি আপেল খাওয়া উচিত। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

 

টাইমস/এনজে/জিএস

মন্তব্য করুন