চার বছরের দীর্ঘ যাত্রার পূর্ণচ্ছেদে এসে থামল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অনুরাগের ছোঁয়া’। শেষ দিনের শুটিংয়ে যেন মিলল আনন্দ, কান্না, স্মৃতি আর বিদায়ের গন্ধ। স্টুডিয়োর বাগানে শীতের রোদে প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা ব্যস্ত সকলের সঙ্গে গল্পে। পাশে বাঁধা প্যান্ডেল, কোথাও অনুজা মিশকার হাসি, কোথাও সুদীপা ও আদিত্যের চোখে জল। একদিকে উদ্যাপনের কল্লোল, অন্যদিকে মনের কোণে গভীর মনখারাপ।
ধারাবাহিকটি আর কয়েক দিন পরই চার বছর পূর্ণ করত। ছোট দীপার যাত্রা থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের গল্প অসংখ্য আবেগ, মোড় আর চরিত্রের পথচলা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে দর্শকদের কাছে। ক্যামেরার সামনে ঝড় উঠলেও, শট কাটলেই পুরো ইউনিট এক পরিবারের মতো ছিল। দুপুরের একসঙ্গে খাওয়া, বিকেলের আড্ডা সব ছিল এই পরিবারের নিয়মিত ছন্দ। আর সেই ছন্দেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল স্টুডিয়োর সারমেয়রা।
তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা যেন নিছক স্টুডিওর চারপেয়ে নয় বরং পরিবারেরই সদস্য। খাওয়ানো, ওষুধ দেওয়া, আদর সব ভাগ করে নিয়েছিলেন শিল্পীরা। অনুজা চরিত্রে অভিনয় করা সায়ন্তনী মল্লিক তো একরকম দায়িত্ব নিয়েই দেখতেন তাদের। তাই বিদায়ের মুহূর্তে সারমেয়দের নিয়েই দুশ্চিন্তা বেড়ে গেল সবার মনে। সায়ন্তনী বললেন, ‘‘সত্যিই চিন্তা হচ্ছে। ওদের কে দেখবে? ঠিক করে খাবার পাবে কি না ভাবছি।’’
মল্লিকা মজুমদারও জানালেন একই উদ্বেগের কথা। অন্যদিকে অবলা সারমেয়রাও যেন বুঝে ফেলল বিদায়ের সুর বার বার স্নেহের মানুষদের গা ঘেঁষে শুয়ে পড়ছিল ওরা।
অভিনেতা রাহুল মজুমদার নিজের আবেগ সামলাতেই পারছিলেন না। বললেন, কারও চোখের দিকে তাকালেই কেঁদে ফেলবেন, তাই তাকাতেই পারছেন না। সেই দিনই প্রায় চার ঘণ্টা সফর করে এক ভক্ত এসেছিলেন রাহুলের সঙ্গে দেখা করতে। প্রিয় নায়কের ছবির কোলাজ বাঁধিয়ে উপহার দেন তিনি। সেই স্মৃতিময় মুহূর্ত সামলে পুরো টিমের সঙ্গে জমিয়ে হলো ভুরিভোজ।
শেষ দিনের মেনু যেন ছিল আবেগের মতোই ভারী কড়াইশুঁটির কচুরি, ছোলার ডাল, ফুলকপির রোস্ট, ফিশফ্রাই, বাসন্তী পোলাও, পাঁঠার মাংস, আর শেষপাতে নলেনগুড়ের মিষ্টি। এরপর কেক কেটে চার বছরের যাত্রার সফল সমাপ্তি উদ্যাপন করলেন সবাই। আবার কোনও এক দিনে, কোনও নতুন গল্পে, একই টিমে একসঙ্গে কাজ করার আশায় বুক বাঁধলেন শিল্পীরা।
এমকে/টিএ