পাকিস্তানের সর্বক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক প্রধানকে আইনি দায়মুক্তি দেওয়ার ফলে আইনের শাসনের ওপর ‘দূরগামী পরিণতি’ হতে পারে বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের সতর্কবার্তাকে রবিবার প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তান সংবিধানে লিপিবদ্ধ ‘মৌলিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’—জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কের সমালোচনার জবাবে এ কথা বলা হয়।
চলতি মাসের শুরুতে পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাকে আজীবনের জন্য মামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই সংশোধনীর মাধ্যমে একটি নতুন ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টও গঠন করা হয়েছে, যা সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা কেড়ে নেয় এবং বিচারকদের ওপর নজরদারি কঠোর করে।
এক বিবৃতিতে শুক্রবার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এই পরিবর্তনগুলো সম্মিলিতভাবে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের অধীন করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের সেই নীতিগুলোর ওপর দূরগামী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যেগুলোকে পাকিস্তানের জনগণ গভীরভাবে মূল্য দেয়।’
ইসলামাবাদ থেকে রবিবার দেওয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এসব মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ‘দুঃখজনক যে পাকিস্তানের অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন এতে পাওয়া যায়নি।’
২৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বেসামরিক কর্তৃত্ব ও রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে সংগ্রাম করে আসছে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত সামরিক বাহিনী ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে একের পর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির প্রায় অর্ধেক সময় শাসন করেছে।
এমকে/এসএন