দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে পানামায় হামলার পর প্রথম লাতিন আমেরিকার কোনো দেশে মার্কিনেরা সরাসরি এমন আগ্রাসন চালাল। মার্কিনদের এ হামলার মাধ্যমে অঞ্চলটিতে মার্কিনবিরোধী এক শাসককে সরিয়ে দেশটির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।
মাদুরোকে বন্দির পর প্রশ্ন উঠছে- ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে দেশটির নেতৃত্বে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে নরওয়েতে অবস্থানরত মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে সমর্থন দেওয়া হবে কি না এ বিষয়ে তার প্রশাসন ভাবছে। তিনি বলেন, আমাদের এখনই এটা দেখতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছে, এটা আপনারা জানেন। কিন্তু কী ধরনের নির্বাচন হয়েছিল, আমি জানি না।
তবে মাদুরোর নির্বাচন ছিল একেবারেই লজ্জাজনক। মাদুরোকে আটক করার ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র আর চাপের কাছে নত হবে না। মাদুরোর আটক হওয়া দেখিয়ে দিয়েছে আমরা আর কাউকে আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে দেব না।
মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও কারাকাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন এ হামলা তেল এবং খনিজসম্পদ দখলের চেষ্টা। হামলার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কারাকাসের বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। এ সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলানো মাদুরোকে শনিবার ভোরে আটক করে ডেল্টা ফোর্স, যেটি মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাস দমন ইউনিট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মাদুরেকে আটকের খবর দেন। তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সফলভাবে একটি বৃহৎ পরিসরে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানটি মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়।
খবর- বিবিসি, আলজাজিরা ও ফক্স নিউজ।
এসএস/টিকে