যুক্তরাষ্ট্রের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কড়া নিরাপত্তায় ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে (মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে) নেয়া হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকেই তাকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিউইয়র্কের বিমানঘাঁটিতে নামার পর স্ত্রীসহ মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) সদর দফতরে নিয়ে প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা। এরপরই তাকে ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে নেয়া হবে।
নিউইয়র্কের এই কুখ্যাত কারাগারটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দিদের রাখার জন্য পরিচিত। এর আগে পপ তারকা আর কেলি, যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সম্প্রতি র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসকে এই কারাগারেই রাখা হয়েছিল।
কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকি-ধামকির পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদন মতে, ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে মার্কিন বাহিনী।
মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে ফ্লোরিডার পাম বিচের মার–আ–লাগো বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে অনেক ‘জোরালো প্রমাণ’ রয়েছে। তিনি বলেন, এটি (মাদুরোর অপরাধ) একদিকে ভয়াবহ, অন্যদিকে হতবাক করে দেয়ার মতো।
কেএন/টিকে