ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিকোলাস মাদুরো অপসারণের খবরে শুরুতে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতির জায়গা দখল করেছে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে এই প্রশ্নে এখন ‘উচ্চ সতর্কতায়’ দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কারাকাস থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক সিসি দে ফ্লাভিয়িস জানান, শুরুতে মানুষ আনন্দ প্রকাশ করলেও দ্রুত বাস্তব চিন্তা ভর করে। “দিনের শুরুতে উচ্ছ্বাস ছিল। কিন্তু পরে মানুষ ভাবতে শুরু করে ফ্রিজে যথেষ্ট খাবার আছে তো? গাড়িতে গ্যাস আছে তো?”
এই অনিশ্চয়তার কারণে শহরজুড়ে খাদ্যসামগ্রী ও জ্বালানির জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই বাড়ির বাইরে না গিয়ে নিরাপদে অবস্থান করার চেষ্টা করছেন। সম্ভাব্য সহিংসতা বা নতুন কোনো হামলার আশঙ্কায় মানুষ ঘরে থাকাকেই নিরাপদ মনে করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলাবাসীর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাস্তায় নামলে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পড়তে হয়। সে কারণেই এবারও অধিকাংশ মানুষ ‘লো প্রোফাইল’ বজায় রাখছেন। একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, খাবার ও জ্বালানির পরিস্থিতি খোঁজ নিচ্ছেন।
এমন সংকটের মধ্যেও ভেনেজুয়েলানদের স্বভাবসুলভ হাস্যরস থেমে নেই। কঠিন সময় পার করতে তারা কৌতুককে আশ্রয় করেন। হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে ছোট ছোট রসিকতা পাঠাচ্ছেন, মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
তবে সবকিছুর পরও ভেতরে ভেতরে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। “আজ রাতে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারব তো? আর কোনো হামলা হবে কি না?” এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভেনেজুয়েলাবাসীর মনে।
সব মিলিয়ে, মাদুরো অপসারণের পর দেশজুড়ে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই সতর্ক ও শঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসএস/টিকে