সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ রোববার (৪ জানুয়ারি)। এদিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার জন্য বা তাদের অব্যাহতি দিতে শুনানি করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

আজ সকাল ১০টার পর আদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারে থাকা আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার উসকানি দেওয়াসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ চান চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম। গত ২২ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরুর আবেদন জানান।

ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। এই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরে অভিযোগটি আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় ফোনালাপ করেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান। সেই ফোনালাপের এক পর্যায়ে ‘কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে’- বলেন তারা।

তাদের এ বক্তব্যের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে বলে অভিযোগ প্রসিকিউসনের।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেফতার হন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছেন। সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ১৫ জনকে হত্যাসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

কেএন/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন Jan 05, 2026
img
১৪৪ জনের মধ্যে ৮ জন জুলাইযোদ্ধার পরিচয় শনাক্ত: সিআইডি Jan 05, 2026
img
নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক : সিইসি Jan 05, 2026
img
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান পৃথিবীর শান্তির জন্য: ট্রাম্প Jan 05, 2026
img
সেঞ্চুরিতে পন্টিংয়ের রেকর্ড ছুঁলেন জো রুট Jan 05, 2026
img
শুটিং করতে শ্রীলঙ্কায় সিয়াম, থাকবেন সুস্মিতাও Jan 05, 2026
img
চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস কাদের চৌধুরীর সম্পদের তুলনায় ঋণ ২৬ গুণ বেশি Jan 05, 2026
img
হাদির আজাদির লড়াই আজ থেকে শুরু : নাসীরুদ্দীন Jan 05, 2026
img
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গম্ভীরা গানের আসর Jan 05, 2026
img
ভেনেজুয়েলা ‘কথা না শুনলে’ ফের হামলা হবে : ট্রাম্প Jan 05, 2026
img

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ছাত্র-জনতা শহীদ হওয়া এলাকার ওসিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে Jan 05, 2026
img
ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার গেজেট রায় অপরিবর্তিত Jan 05, 2026
img
মাদুরোর বিদায়ের পর সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি বিরোধী নেতার Jan 05, 2026
img
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন Jan 05, 2026
img
ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের মন্তব্যের ব্যাখ্যা চায় যুক্তরাজ্য Jan 05, 2026
img
রাজধানীতে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি Jan 05, 2026
img
ঘন কুয়াশা ও শীতে কাঁপছে কুড়িগ্রাম Jan 05, 2026
img
জায়ান্টদের জন্য পয়েন্ট হারানোর রাত Jan 05, 2026
img
অ্যানিভার্সারি লুকে নজর কাড়লেন তাহসান পত্মী রোজা! Jan 05, 2026
img
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে কিউবার ৩২ নাগরিক নিহত Jan 05, 2026