আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে বলে মনে করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
রোববার (৪ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) যে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সেমিনারে এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া ”বাংলাদেশে এফআরসি এবং অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ক্ষেত্রে এফআরসির ভূমিকা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ বিভাগ ও ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ উপদেষ্টা গত আট মাসে এফআরসির কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংস্থাটির কার্যকারিতা আরও জোরদারে একটি সুস্পষ্ট অ্যাকশন প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- এফআরসির ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা; এফআরসির চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; এফআরসির পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন কার্যক্রম অনুমোদন ও বাস্তবায়ন।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণী সংস্থা যেমন- আইএফ়আরএস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস, এক্সবিআরএল ইন্টারন্যাশনাল ইনকর্পোরেটেড, এশিয়ান ওশেনিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস সেটার্স গ্রুপ, ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অব অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড সেটার্স, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন্সের সদস্যপদ গ্রহণ, নবায়ন ও সংশ্লিষ্ট সহায়তা প্রদান; আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, দ্বিপক্ষীয় সভা আয়োজন এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান।
এছাড়া, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনতে এফআরসি চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন অর্থ উপদেষ্টা।
এমআর/টিএ