ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ তুলে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোকে বন্দি করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘এখন থেকে ভেনেজুয়েলা শাসন করবে যুক্তরাষ্ট্র।’
রোববার (৪ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ না। বরং দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চাপ বজায় রেখে জ্বালানি তেলের ওপর সামরিক ‘কোয়ারেন্টাইন’ বা অবরোধ বজায় রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।
সিবিএস নিউজের অনুষ্ঠানে রুবিওকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভেনেজুয়েলা শাসন করবে। তখন তিনি ইরাক যুদ্ধের মতো কোনো দখলদার প্রশাসনের কথা বলেননি। বরং তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথামতো মাদুরোর অনুসারীদের মাধ্যমে পরিচালিত বর্তমান সরকারকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে ভেনেজুয়েলায় ঢুকতে বা বের হতে বাধা দেবে মার্কিন বাহিনী। এই বাধা ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না ভেনেজুয়েলা তাদের তেলশিল্প বিদেশি বিনিয়োগের (বিশেষ করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান) জন্য খুলে দিচ্ছে।
রুবিও বলেন, এই অবরোধ জারি থাকবে এবং এটি আমাদের জন্য বিশাল এক শক্তির জায়গা। এটি ততক্ষণ বজায় থাকবে যতক্ষণ না আমরা সেখানে পরিবর্তন দেখছি-যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য এক উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
পরে আবার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, মানুষ ট্রাম্পের ‘চালানো’-সংক্রান্ত মন্তব্যের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের এর অর্থ দেশ চালানো নয়, বরং ভেনেজুয়েলার নীতিগুলো কীভাবে চলবে, তা নিয়ন্ত্রণ করা।
মার্কো রুবিও আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবীয় সাগরে ট্রাম্পের মোতায়েন করা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নৌবহর সেখানে অবস্থান করবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে-ভেনেজুয়েলা সরকারের আয়ের মূল উৎসকে পঙ্গু করে দেওয়া। যদি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজন হয়, তবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আরও সৈন্য পাঠাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট কোনো বিকল্পকেই বাদ দিচ্ছেন না।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় শান্তিতে নোবেলপ্রাপ্ত বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে বসানো হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাচাদোকে আগে সমর্থন করলেও এখন ট্রাম্প তাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, মাচাদোর দেশ চালানোর মতো ‘জনসমর্থন’ ও ‘সম্মান’ নেই।
আপাতত ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের সঙ্গেই কাজ করার ইঙ্গিত দিয়ে রুবিও বলেন, তারা মুখে কী বলছে তা নয়, বরং ভবিষ্যতে তারা কী কাজ করে, তার ওপর ভিত্তি করে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এছাড়া, ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা কি না-জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেননি। কিউবান বংশোদ্ভূত বাবার সন্তান রুবিও বলেন, কিউবা সরকার একটি বড় সমস্যা। তারা বর্তমানে অনেক বিপদে আছে। রুবিও মনে করেন, ভেনেজুয়েলার সরকারের পতন কিউবাতেও বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
এমআই/এসএন