কিউবায় মার্কিন হামলায় ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। তারা জানান, নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্যও রয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াস-কানেল ঘোষণা করেছেন, ৫ ও ৬ জানুয়ারি দেশটিতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশবাসীরা মর্যাদা ও বীরত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তীব্র প্রতিরোধের পর সরাসরি যুদ্ধে বা বোমাবর্ষণের ফলে শহীদ হয়েছেন।”
এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের উদ্দেশ্যে চালানো মার্কিন হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ৮০ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিক উভয়ই রয়েছেন। রোববার (০৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমস ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জানান, অভিযানে মাদুরোর নিরাপত্তা দলের একটি “বড় অংশ” মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেছেন, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল পিন্টো কিউবার নিহত নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যারা সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে “নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।” একই সঙ্গে তিনি এই মার্কিন অভিযানকে “অপরাধমূলক ও কুখ্যাত” আক্রমণ বলে আখ্যা দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হননি। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু সেনা আহত হয়ে থাকতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার অভিযানে প্রায় অর্ধডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বোমাবর্ষণে ভেনেজুয়েলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, যোগাযোগ অবকাঠামো ও গুদাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব বিমান হামলার উদ্দেশ্য ছিল মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে সহায়তা করা, যাতে তাকে মাদক পাচার ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা যায়।
ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আনা এসব অভিযোগ মূলত সরকার পরিবর্তনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্র: আরটি
এসএস/এসএন