খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দেশের মূল্যস্ফীতি। টানা দুই মাস ধরে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। কারণ ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে আয় বাড়ছে না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ডিসেম্বর মাসের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ওই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে, যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এ জরিপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে। টানা তিন মাস ধরে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো—গত বছরের ডিসেম্বরে যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পাওয়া যেত, চলতি বছরের ডিসেম্বরে সেটির জন্য খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা। গত এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা ওঠানামা করলেও মূলত ৮ শতাংশের আশপাশেই অবস্থান করছে।
গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিরাজ করছে। ২০২৫ সালে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত বছরের জুলাই মাসে আন্দোলনের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। পরে তা কমতে কমতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে আসে, যা ছিল ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তবে এরপর টানা দুই মাস ধরে আবারও বাড়ছে মূল্যস্ফীতির সূচক।
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরো বেড়েছে। সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার তুলনামূলকভাবে উচ্চ রাখলেও অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে লক্ষ্য ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট হচ্ছে।
টিজে/টিকে