যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সোমবার (৫ জানুয়ারি) ২৭২ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে। একই দিনে দুই দেশের মধ্যে ১৪৫৯ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। এ সময় বাণিজ্য খাতে প্রায় ১২ কোটি টাকা এবং ভ্রমণ খাতে প্রায় ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন বেনাপোল রুটে বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাতায়াতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, সোমবার বাংলাদেশি ১০০ টাকার বিনিময়ে মিলেছে ৭৪ রুপি এবং ভারতীয় ১০০ টাকায় বাংলাদেশি টাকা পাওয়া গেছে ১৩৩ টাকা। প্রতি ইউএস ডলারের ক্রয় মূল্য ছিল ১২৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১২৬ টাকা।
বন্দরের তথ্য মতে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেনাপোল ও পেট্রাপোল মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়। এদিন দিনভর ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১৮২ ট্রাক পণ্য। আমদানি পণ্যের মধ্যে ছিল শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিকেল, শিশু খাদ্য, মেশেনারিজ দ্রব্য, অক্সিজেন, বিভিন্ন প্রকারে ফল, চাল, পেঁয়াজ ও মাছসহ বিভিন্ন পণ্য।
দেশীয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিষেধাজ্ঞায় সুতাসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বন্ধ আছে।
বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে ৭০ ট্রাক পণ্য। এসব পণ্যে মধ্যে উল্লেখ্য ছিল, বসুন্ধরা টিসু, মেলামাইন, কেমিকেল, মাছ ও ওয়ালটন পণ্য সামগ্রী। ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞায় কারণে বেনাপোল স্থলপথে পাট, পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক, কাঠের তৈরি আসবাব পত্রসহ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হয় না।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামসুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ট্রাক পণ্যের বাণিজ্য হতো। তবে গতবছরের ৫ আগস্টের পর দুই দেশের একের পর এক বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় আমদানি-রপ্তানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। এক বছর ধরে বন্ধ দুই দেশের বাণিজ্য বৈঠক। এতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের বিড়ম্বনা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে গত বছরে তার আগের বছরের চেয়ে দেড় লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি কমেছে। বাণিজ্যের পরিবেশ ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ৬টা থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাতায়াত। সোমবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট যাতায়াত করেছে ১৪৪৯ জন। এদের মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গেছে ৮৮৭ জন। ভারতে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৬৪৪ জন, ভারতীয় ২৩৯ জন ও অন্যান্য দেশের ৪ জন। এ সময় ভারত থেকে ফিরেছে ৫৬২ জন। ভারত ফেরত যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৪১৪ জন, ভারতীয় ১৫৩ জন। অন্যান্য দেশের ছিল ৫ জন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত কমে যায়।
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, রেল পথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারকের কেবল ভারত থেকে ট্রাকটর আমদানি হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রেলে অন্যান্য পণ্যের আমদানি এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কেএন/টিকে