ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার দল ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করবে।
সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজের কর্তৃত্বও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
গোপন স্থান থেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে মাচাদো বলেন, 'আমি যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। আমাদের বিশ্বাস, এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়া উচিত। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পাব।'
নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। তবে মাদুরোর আটকের পর অনেকে মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে দেখার আশা করলেও, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত মাদুরোর সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকেই সমর্থন দিয়েছেন।
মাচাদো রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলায় নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি এবং মাদক পাচারের অন্যতম মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত করেন। গত ১০ই অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের ঘোষণার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে মাচাদোর কোনো কথা হয়নি বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাচাদো নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মাচাদো বলেন, 'এটা এখনো হয়নি, তবে আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলতে চাই যে, ভেনেজুয়েলার জনগণ এই পুরস্কারটি তাকে দিতে এবং তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়।'
এদিকে, মাদুরোর আটকের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আটক হওয়ার আগে মাদুরো একটি ডিক্রি সই করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র হামলায় সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (৫ই জানুয়ারি) কারাকাসে অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১৩ জন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের আশপাশে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলেও প্রতিবেদনে
উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরআই/ এসএন