মার্কিন প্রশাসনের হাতে অপহরণের শিকার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘অপহৃত’ না বলার ব্যাপারে নিজ সাংবাদিকদের নির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন-বিবিসি।
ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ এক নথির বরাত দিয়ে রুশ টেলিভিশন আরটি'র খবরে বলা হয়, বিবিসি কর্তৃপক্ষ তাদের সাংবাদিকদের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উঠিয়ে নেয়ার খবর লেখা বা বলার ক্ষেত্রে অপহৃত শব্দ ব্যবহারে নিষেধ করেছে।
এর আগে নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে কোনো মন্তব্য করেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এর মধ্যেই বিবিসির এই অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ একটি বাহিনী ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় এবং মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে। এরপর তাদেরকে প্রথমে হেলিকপ্টার পরে জাহাজে করে নিউইয়র্কে নেয়া হয় এবং আদালতে তোলা হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনাকে অপহরণ হিসেবে রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং মাদুরো নিজেও আদালতে দাবি করেছেন যে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের সাংবাদিকদের এটাকে অপহরণ বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বিবিসির অভ্যন্তরীণ একটি নির্দেশিকা/মেমো ফাঁস হয়েছে, যেখানে বিবিসির সংবাদকর্মীদের বলা হয়েছে, মাদুরোকে নিয়ে রিপোর্ট লেখা বা বলার ক্ষেত্রে তারা যেন ‘কিডন্যাপড’ বা অপহৃত শব্দটি ব্যবহার না করে বরং ‘ক্যাপচারড’ বা ‘সিজড’ (উভয়ের অর্থ আটক) শব্দগুলো ব্যবহার করে।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) সম্পাদকীয় নির্দেশিকাটি প্রকাশ করেন কলামিস্ট, ভাষ্যকার, সাংবাদিক ও লেখক ওয়েন জোন্স। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার দশ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বিবিসির এই ভাষাগত নির্দেশিকা আসলে ঘটনার গুরুতরতা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা হতে পারে। আর তাই বিষয়টি সংবাদ হিসেবে এবং রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যাপক মনোযোগ পেতে শুরু করেছে।
আরআই/ এসএন