কোনো রাজনৈতিক দলের অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি প্রয়োজন মনে করে, তবেই প্রশাসনে রদবদল করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জেলায় দলীয় ডিসি নিয়োগের অভিযোগ এবং তাদের অপসারণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে প্রশাসনের রদবদলের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, আমরা নিজেরা রদবদলের কথা বলছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি 'কনভিন্াড হয় এবং তারা মনে করেন যে রদবদল প্রয়োজন, কেবল তখনই তারা আমাদের বলবেন। তখন আমরা সেটা বিবেচনা করব এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বা অভিমতের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ইসি আগে বিষয়টিতে নিশ্চিত হোক, তাদের নির্দেশনা পেলেই সরকার তা সম্যান জানানোর চেষ্টা করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ৩০০ আসনে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীর মধ্যে সাতশতাধিক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
এ নিয়ে বুধবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল অভিযোগ করে যে, তাদের নেতারা প্রার্থিতা বাম্বাইয়ে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহামাদ তাহের অভিযোগ করেন, বিভিন্ন জায়গায় 'দলীয় পরিচয়ে' ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। যেমন দ্বৈত নাগরিকত্বের একই ঘটনায় কোথাও মনোনয়ন বৈধ আবার কোথাও বাতিল করা হয়েছে।
জামায়াতের এই অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখিনি। সফল প্রার্থীর পরিস্থিতি একরকম ছিল না, তাই সিদ্ধান্তে কিছু পরিবর্তন হতেই পারে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক বিবেচনায় যেটা উপযুক্ত মনে করেছেন, সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কারো সিদ্ধান্তে দ্বিমত থাকলে আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং শত শত প্রার্থী এখন সেই সুযোগ গ্রহণ করছেন।
এছাড়া, বর্তমান জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) পূর্বে নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায় সুষ্ঠু ভোট আয়োজন নিয়ে শঙ্কার জবাবে সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা কেউ সঙ্গে নিয়ে আসে না কাজের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তারা যদি সঠিক পথে চলেন এবং তাদের মনোভাব সঠিক থাকে, তবে তারা শতভাগ সফল হবেন ইনশাআল্লাহ। তবে কোথাও কোনো বিচ্যুতি বা বার্থতা দেখা গেলে সে অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা
এমআর/টিকে