ভেনেজুয়েলার পর এবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী মেক্সিকোতে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মেক্সিকোভিত্তিক মাদক পাচারকারী গ্যাংগুলোকে নির্মূল করতে দেশটিতে স্থল অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “বছরের পর বছর ধরে মেক্সিকোর অপরাধী গ্যাংগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বন্যার মতো মাদক ও অবৈধ অভিবাসী পাচার করছে। আমরা গত কয়েক মাস ধরে সাগরপথে এই গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি এবং ইতোমধ্যে ৯৭ শতাংশ মাদক পাচার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন এসব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময় এসেছে এবং শিগগিরই আমরা (মেক্সিকোতে) স্থল অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি।”
“কারণ এই মাদক গ্যাংগুলোই এখন মেক্সিকো চালাচ্ছে। দেশটিতে এখন যা চলছে-তা খুব, খুব দুঃখজনক।”
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস ক্যারিবিয়ান সাগরে মেক্সিকান মাদক পাচারকারী গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। সেই অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ১১৫ জন এবং ৩৫টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। নিহত এবং ধ্বংস হওয়া নৌযানগুলো সব মেক্সিকান মাদক গ্যাংগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
গত ৩ ডিসেম্বর শেষ রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবস্যালুট ডিজল্ভ’ চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ডেল্টা ফোর্স। এ সময় মার্কিনি সেনাদের বাধা দিতে গিয়ে নিহত হন ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য।
প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস, মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এসব অভিযোগের বিচার হবে।
মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পরের দিনই কলম্বিয়া, মেক্সিকো এবং কিউবা লাতিন আমেরিকার এই তিন দেশে অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত বা হুঁশিারিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম। শুক্রবার রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমার অনুমোদন ছাড়া মেক্সিকোতে কোনো সামরিক অভিযান হবে না। আমরা আরও একবার ওয়াশিংটনকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে আমরা, মেক্সিকোর জনগণ সহযোগিতায় বিশ্বাসী; অধীনতা বা আগ্রাসনে নয়।”
সূত্র : সিএনবিসি
পিআর/টিএ