© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মিল্কিওয়েতে সাদা নক্ষত্রের অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

শেয়ার করুন:
মিল্কিওয়েতে সাদা নক্ষত্রের অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৮ এএম | ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
মহাকাশ যে স্থির ও নীরব এমন ধারণা নতুন এক আবিষ্কারে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে (ছায়াপথ) একটি সাদা নক্ষত্র বা হোয়াইট ডোয়ার্ফ (অত্যন্ত ঘন ও পৃথিবীর মতো আকারের মৃত নক্ষত্র) শনাক্ত করেছেন। চলার পথে এটি রঙিন এক ধরনের শকওয়েভ (তীব্র ধাক্কাজনিত তরঙ্গ) তৈরি করছে।

এই সাদা নক্ষত্রটি খুব শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের অধিকারী। এটি আরেকটি ছোট নক্ষত্রের সঙ্গে জোড়া অবস্থায় ঘুরছে, যাকে বলা হয় বাইনারি সিস্টেম (দুটি নক্ষত্র পরস্পরের মাধ্যাকর্ষণে আবদ্ধ থাকা ব্যবস্থা)। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাদা নক্ষত্রটি তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নিচ্ছে। এই নক্ষত্রযুগল পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৩০ আলোকবর্ষ দূরে, ‘অরিগা’ নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত।

ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির চিলিভিত্তিক ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ দিয়ে এই শকওয়েভ দেখা গেছে। ছবিতে দেখা যায়, সাদা নক্ষত্র থেকে বের হওয়া পদার্থ আশপাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাসের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উজ্জ্বল রঙ তৈরি করছে। এই ধাক্কার ঢেউকে বলা হয় বো শক (নৌকা চলার সময় সামনে যেমন ঢেউ ওঠে, তেমন বাঁকানো শকওয়েভ)।

বিজ্ঞানীরা জানান, শকওয়েভের লাল রঙ এসেছে হাইড্রোজেন থেকে, সবুজ নাইট্রোজেন থেকে এবং নীল অক্সিজেন থেকে। এসব গ্যাস উত্তপ্ত হলে নির্দিষ্ট রঙে জ্বলে ওঠে।

এর আগেও কিছু সাদা নক্ষত্রের চারপাশে শকওয়েভ দেখা গেছে। তবে সেগুলোর চারপাশে গ্যাসের চক্র বা ডিস্ক ছিল। এই নক্ষত্রটির ক্ষেত্রে তা নেই। তবু কীভাবে গ্যাস বের হয়ে এত বড় শকওয়েভ তৈরি হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গবেষকেরা বলছেন, শকওয়েভের আকার দেখে বোঝা যায়, এই প্রক্রিয়া অন্তত এক হাজার বছর ধরে চলছে। তাই এটি হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। বিজ্ঞানীদের কাছে এই রহস্যই এখন সবচেয়ে বড় আগ্রহের বিষয়।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন