মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩৩০ জন চিহ্নিত ব্যক্তির প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহানগর এলাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীকে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদের এবং তাদের দলের সদস্যদের নগরীতে প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
সিএমপির মুখপাত্র সহকারী কমিশনার আমিনুর রশীদ জানান, জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্য, কাউন্সিলর ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। একই সঙ্গে তালিকায় আছেন নগর বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী এবং সনাতনী জাগরণী মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তিনি ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় বর্তমানে কারাবন্দী।
উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতা, সাবেক কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন আলোচিত সন্ত্রাসীর নামও তালিকায় রয়েছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ পলাতক, কেউ কারাবন্দী রয়েছেন।
এর আগেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ। ২০২৪ সালের আগস্টে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার পর তিনি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নভেম্বর মাসে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও জোরালো পদক্ষেপের নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিএমপি জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোরতা বজায় রাখবে।
ইউটি/টিএ