ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে শিশুদের জন্য অস্ট্রেলিয়া-ধাঁচের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। একই সঙ্গে অনলাইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েও মতামত নিচ্ছে সরকার।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, প্রস্তাবিত বিভিন্ন উদ্যোগ কার্যকর হবে কি না তা যাচাই করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও প্রমাণ খতিয়ে দেখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা সম্ভব কি না এবং তা চালু হলে কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির স্থাপন করেছে। অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞতা সরাসরি জানতে চায় যুক্তরাজ্য সরকার।
সরকার জানিয়েছে, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় যেসব বিষয় বিবেচনায় থাকবে তার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সম্মতির বয়স বাড়ানো, অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা (ফোন কারফিউ) চালু করা এবং ‘স্ট্রিকস’ বা ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’-এর মতো সম্ভাব্য আসক্তিকর ডিজাইন ফিচার সীমিত করা।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি কনটেন্টের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যখন উদ্বিগ্ন, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাজ্যের এই ঘোষণা এলো। চলতি মাসে ইলন মাস্কের গ্রক এআই চ্যাটবট দ্বারা সম্মতি ছাড়া যৌন ছবি তৈরির অভিযোগ যার মধ্যে শিশুদের ছবিও রয়েছে এই বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে এআইভিত্তিক ‘নিউডিফিকেশন’ টুল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শিশুদের যেন নিজেদের ডিভাইসে নগ্ন ছবি তুলতে, শেয়ার করতে বা দেখতে না পারে সেজন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, প্রযুক্তি শিশুদের জীবনে সমৃদ্ধি আনবে, ক্ষতি নয় এবং প্রতিটি শিশুকে তাদের প্রাপ্য শৈশব উপহার দেবে।
সরকারি ঘোষণায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট বয়সের নিচে’ শিশুদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বয়স যাচাই ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্তমান ১৩ বছর ডিজিটাল সম্মতির বয়স খুব কম কি না সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা হবে এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বার্তা সংস্থা পিএ মিডিয়া।
পিএ মিডিয়ার বরাতে বলা হয়, ব্যাডেনক অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার যে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা আসলে সিদ্ধান্তে বিলম্বেরই আরেক উদাহরণ। এর আগে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ‘দৃঢ়তার অভাব’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
ব্যাডেনক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক সপ্তাহ আগে কনজারভেটিভরা যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেটি অনুকরণ করার চেষ্টা করছেন তাও আবার ঠিকভাবে করতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, এটা স্টারমার ও লেবার পার্টির আরেক দফা দ্বিধা ও বিলম্বের প্রমাণ, যাদের হাতে এখন আর কোনো নতুন ধারণা নেই।
আরআই/টিকে