অনেকেরই প্রিয় একটি তেল সরিষার তেল। এই তেলের ঝাঁঝালো সুগন্ধ তাদের মন কেড়ে নেয়। মাছ ভাজা থেকে শুরু করে আলু সিদ্ধ সরিষার তেল ছাড়া যেন ভোজনরসিকদের চলেই না।
কিন্তু বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক সরিষার তেলেই মিশছে মারাত্মক ভেজাল।
অসাধু ব্যবসায়ীরা সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল, এমনকি ক্ষতিকর ‘আর্জিমন’ তেল (শেয়ালকাঁটার তেল) মিশিয়ে সরষের তেলের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
এই ভেজাল তেল নিয়মিত খেলে হৃদরোগ থেকে শুরু করে অন্ধত্ব এবং ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ পর্যন্ত হতে পারে। তাই ঘরে বসেই সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার ৫টি সহজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি জেনে নিন।
সরিষার তেল আসল কি না কিভাবে বুঝবেন
ফ্রিজিং টেস্ট
একটি কাঁচের ছোট বাটিতে বা বোতলে কিছুটা সরিষার তেল নিন।
সেটি ফ্রিজারে ২ থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। খাঁটি সরিষার তেল কখনোই ফ্রিজে জমে যাবে না। এটি তরল অবস্থাতেই থাকবে। আর যদি দেখেন তেলের ওপরের অংশে সাদা আস্তরণ জমেছে বা তেলটি ঘনীভূত হয়ে গেছে, তবে বুঝবেন এতে পাম তেল বা অন্য কোনো সস্তা তেলের ভেজাল রয়েছে।
হাতের তালুতে ঘষে পরীক্ষা
অল্প পরিমাণ সরিষার তেল হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে ঘষুন। আসল তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে আসবে এবং হাতের তালুতে কোনো অন্য রঙের দাগ লাগবে না।
আর যদি ঘষার পর কোনো রং বেরিয়ে আসে বা রাসায়নিক কোনো গন্ধ পান, তবে তাতে কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে।
নাইট্রিক এসিড পরীক্ষা
এটি সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি। একটি টেস্ট টিউব বা কাঁচের পাত্রে সামান্য তেল নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা নাইট্রিক এসিড যোগ করুন।
আসল তেলের রঙের কোনো পরিবর্তন হবে না। আর যদি মিশ্রণটি লাল বা কমলা রং ধারণ করে, তবে নিশ্চিত থাকুন এতে বিষাক্ত ‘আর্জিমন তেল’ মেশানো হয়েছে, যা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর।
ধোঁয়ার ওপর নজর দিন
কড়াইতে তেল গরম করার সময় লক্ষ্য করুন। খাঁটি সরিষার তেল খুব দ্রুত ধোঁয়া ছাড়ে না এবং এর ঝাঁঝ চোখ-নাকে জ্বালা ধরাবে। যদি তেল গরম হতে না হতেই কড়াইতে সাদাটে ধোঁয়া বের হয় এবং ঝাঁঝ উধাও থাকে, তবে তাতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
রঙের গভীরতা
খাঁটি সরিষার তেলের রং হয় গাঢ় সোনালি বা লালচে হলুদ। খুব হালকা হলুদ রঙের স্বচ্ছ তেল মানেই তাতে মিনারেল অয়েলের মিশ্রণ থাকতে পারে।
তাই সুস্থ থাকতে হলে তেলের বিশুদ্ধতার সঙ্গে আপস করবেন না। সস্তা বা খোলা তেল কেনার পরিবর্তে সবসময় কোনো নামী ব্র্যান্ডের ‘অ্যাগমার্ক’ চিহ্নযুক্ত বোতলজাত তেল কেনা নিরাপদ।
মনে রাখবেন, খাঁটি তেল রান্নায় যেমন স্বাদ বাড়ায়, তেমনি শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সুস্থ রাখে।
এমকে/এসএন