অফিসে যাওয়া হোক কিংবা হঠাৎ কোনো অনুষ্ঠানে হাজির হতে হয় সময় কম থাকলেও সাজে প্রাণ ফেরাতে লিপস্টিকের জুড়ি নেই। পোশাক বদলানো সম্ভব না হলেও ঠোঁটে সামান্য রং পুরো চেহারার আবহ বদলে দিতে পারে মুহূর্তেই। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে সাজের ধারা পাল্টালেও কিছু ট্রেন্ড এমন থাকে, যা ঘুরে ফিরে নতুন রূপে সামনে আসে। ঠিক তেমনই নব্বই দশকের অনুপ্রেরণায় তৈরি ‘হালো লিপস’ আবারও জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন ও সৌন্দর্য দুনিয়ার আলোচনায়।
২০২৬ সাল যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই ফিরিয়ে আনছে নব্বই দশকের সৌন্দর্য দর্শন। ভারী কনট্যুর, অতিরিক্ত নিখুঁত ফিনিশ আর স্পষ্ট রেখার যুগ পেরিয়ে এখন সৌন্দর্য মানেই স্বাভাবিকতা। মুখের নিজস্ব গঠন, ত্বকের প্রকৃত টেক্সচার এবং ঠোঁটের স্বাভাবিক আকার সবকিছুকেই নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বদলে যাওয়া ধারণার সঙ্গেই মানিয়ে এসেছে হালো লিপস।
এই ঠোঁটসজ্জায় কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। রং মূলত ঠোঁটের মাঝখানে থাকে, ধীরে ধীরে বাইরের দিকে মিশে যায়। আলাদা করে স্পষ্ট লিপলাইন টানা হয় না, ফলে ঠোঁট ভারী বা কৃত্রিম দেখায় না। বরং তৈরি হয় এক ধরনের নরম ভলিউম, যা খুব স্বাভাবিক অথচ নজরকাড়া। নব্বই দশকের নান্দনিকতা থাকলেও এর ভেতরে রয়েছে আধুনিক মিনিমাল সৌন্দর্য ভাবনার ছোঁয়া।
এই লুক নতুন করে আলোচনায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রূপটান শিল্পী ও বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা হুডা কাত্তানের হাত ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি যখন এই ঠোঁটসজ্জার সহজ কৌশল দেখান, তখনই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই বিউটি অনুরাগীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই সফট অথচ আভিজাত্যপূর্ণ লুক।
হালো লিপসের মূল দর্শন হলো ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ঢেকে না রেখে সেটাকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। ঠোঁটের আশপাশ হালকা ফেস পাউডার দিয়ে পরিষ্কার ও মসৃণ করা হয়, যাতে রং সুন্দরভাবে বসে। ব্রাউন টোনের ক্রিম ব্রোঞ্জার দিয়ে খুব সূক্ষ্মভাবে আউটলাইনে শ্যাডো দেওয়া হয় যা চোখে পড়ে না, কিন্তু এক ধরনের মায়া তৈরি করে। উপরের ঠোঁটের মাঝের অংশে সামান্য ডেফিনিশন ঠোঁটকে আরও সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে।
রঙের ব্যবহারে এখানেই লুকটির আসল জাদু। উপরের ঠোঁটে তুলনামূলক হালকা শেড, আর নিচের ঠোঁটে একটু গাঢ় রং ব্যবহার করা হয়। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য ঠোঁটকে স্বাভাবিকভাবেই ভরাট ও আকর্ষণীয় দেখায়। সবশেষে অল্প পরিমাণ লিপ গ্লস যোগ করা হয়, যাতে ফিনিশ থাকে সফট, ক্লিন ও এলিগ্যান্ট।
এই ঠোঁটসজ্জার বড় শক্তি হলো এর বহুমুখী ব্যবহার। দিনের আলোতে এটি যেমন সতেজ ও স্বাভাবিক দেখায়, তেমনি সন্ধ্যার সাজেও অনায়াসে মানিয়ে যায়। অতিরিক্ত সাজ ছাড়াই মুখে এনে দেয় আত্মবিশ্বাস, ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চোখে পড়ে তবে কখনোই বাড়াবাড়ি নয়।
সব মিলিয়ে হালো লিপস শুধু একটি সাজের ধারা নয়, বরং সৌন্দর্যকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। কম সাজে বেশি প্রকাশ, কম কৃত্রিমতায় বেশি আকর্ষণ—এই ভাবনাকেই সামনে রেখে ২০২৬ সালের সৌন্দর্য ট্রেন্ডে নিজের অবস্থান শক্ত করছে হালো লিপস।
এমকে/এসএন