চব্বিশের গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ সোমবার।
গত ২০ জানুয়ারি এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। এ কারণে সকাল থেকে ট্রাইব্যুনাল ঘিরে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা। রায় সরাসরি সম্প্রচার করতে বিচারকক্ষে কারিগরি প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন।
মামলার গ্রেপ্তার আসামিদের আনা হয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। রায় শুনতে এসেছিলেন ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ওই দিন ট্রাইব্যুনাল জানান, ‘আমরা দুঃখিত। রায় প্রস্তুত হয়নি। ২৬ জানুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ছয় আন্দোলনকারী। তাঁরা হলেন-শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া।
এই ঘটনায় অভিযোগ দাখিলের পর ছয় মাস ১৩ দিনে তদন্ত শেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
গত বছর ২০ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় সংস্থাটি। পরে ২৫ মে মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।
শুনানির পর গত বছর ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার বিচারকাজ। ওই দিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
২৩ কার্যদিবসে ২৬ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামিপক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এ মামলার মোট আসামি আটজন। তার মধ্যে চারজনই পলাতক।
হাবিবুর রহমান ছাড়া পলাতক অন্য আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
এমআর/টিএ