রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্ভাব্য বৈঠকের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, জেলেনস্কি চাইলে মস্কো তাকে স্বাগত জানাবে এবং সেখানে তার নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেয়া হবে। তবে দুই নেতার বৈঠক হতে হবে সুনির্দিষ্ট ফলাফল নির্ভর। আবু ধাবিতে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে মস্কো।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, শান্তি পরিকল্পনার ‘সবচেয়ে সংবেদনশীল’ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে ২০ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউরোপিয়ান প্রাভদাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সিবিহা আরও জানান, গত বছরের নভেম্বর থেকে আলোচিত এই শান্তি পরিকল্পনাটি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন।
তবে এ চুক্তির কিছু ‘সবচেয়ে সংবেদনশীল’ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভূখণ্ড সংক্রান্ত জটিলতা এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা।
তার কথায়, ‘ঠিক এসব সমস্যা সমাধানের জন্যই প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে এবং আলোচনা করতে প্রস্তুত।’ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বলেন, পুতিন কখনোই জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেননি, বরং জেলেনস্কি চাইলে তাকে মস্কোয় আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তবে এই বৈঠকের জন্য কঠোর পূর্বশর্ত জুড়ে দিয়েছেন রুশ কর্মকর্তা। তিনি জানান, কোনো লোক দেখানো বৈঠক নয়, বরং পুতিন-জেলেনস্কি সাক্ষাৎ হতে হবে সুপরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট ফলাফল নির্ভর।
এদিকে ইউক্রেনজুড়ে আবারও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার কিয়েভ ও দিনিপ্রোপেত্রোস্কে ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় দেড়শো ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আকাশপথে চালানো এই হামলায় বেশ কিছু আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও খবর দিয়েছে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন।
চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দুই পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সিএসআইএস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার ১২ লাখের বেশি সেনা হতাহত হয়েছেন। বিপরীতে ইউক্রেনেরও ৫-৬ লাখ সেনা নিহত কিংবা আহত হয়েছেন। যুদ্ধ চলতে থাকলে চলতি বছরের এপ্রিলে মোট হতাহতের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
এসকে/এসএন