ঠিকাদারকে না জানিয়ে রাস্তা নির্মাণের ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগে বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার মেয়র, প্রকৌশলী, সচিব ও হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.পনির শেখ অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তপূর্বক পহেলা এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছে।
মামলার আসামি করা হয়েছে পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো.আনোয়ার হোসেন আকন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মজিবুল হায়দার, সচিব মো. জসিম উদ্দিন খান ও হিসাবরক্ষক মো. বেলায়েত হোসেন।
মামলার বাদী পৌসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত মো. তানভীরের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রুমি।
তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সততা এন্টারপ্রাইজ।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য গত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সততা এন্টারপ্রাইজ দরপত্র দাখিল করলে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে কাজের অনুমতি প্রদান করেন। পৌরসভার এক ও তিন নম্বর ওয়ার্ডে প্রস্তাবিত প্যাকেজে ৬৩৭ মিটার আরসিসি পাকা রাস্তা নির্মাণ খরচ ধরা হয় এক কোটি ৭ লাখ ৩২৮ টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের অনুমতি পেয়ে কাজ শুরু ও অগ্রগতি বিবেচনায় পৌর কর্তৃপক্ষ সততা এন্টারপ্রাইজকে ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেমার প্রথম বিল হিসেবে ২১ লাখ ১৬ হাজার ৫০১ টাকা রুপালী ব্যাংক হিসাব বরাবর একাউন্টে চেকের মধ্যমে প্রদান করে।
২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সততা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. তানভীর মৃত্যুবরন করলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিযুক্ত হন তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ওরফে রুমি। তিনি পৌর কর্তৃপেক্ষর অনুমতি নিয়ে প্যাকেজের কাজ চলমান রাখেন ও কাজের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে পৌর কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় বিল হিসেবে ৩০ লাখ টাকা রুপালী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করে।
কাজের শতকরা ৮০ ভাগ সমাপ্তিতে বিল দাবি করা হলে পৌর কর্তৃপক্ষ তার কাজের বিল হিসেবে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছাড়ের কথা ঠিকাদারকে জানায়।
কিন্তু ঠিকাদার তার রুপালী ব্যাংকের হিসেবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কোন টাকা তার সততা এন্টার প্রাইজের হিসাবে জমা হয়নি বা চেক প্রদান করা হয়নি।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পৌরসভা থেকে নির্বাচিত মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন অপসারিত হলে প্রাপ্য ঠিকাদারি কজের বিল দারি করে তৎকালীন প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বরাবর আবেদন করলে আসামিদের গত ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঠিকাদার পৌরসভায় গিয়ে বিল পরিশোধের দাবি জানালে নানা টালবাহানা করে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর পাঁচ দিন পরে আবার পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে বিল দাবি করলে আসামিরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে বিল প্রদানের অস্বীকার করে এবং বলে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা রুমি আরো জানান, তার পাওনা ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা সর্ম্পূণ জালজালিয়াতিভাবে আত্মসাত করে প্রতারণা করেছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মামলা করা হয়েছে।
এ ব্যপারে সাবেক মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুজিবুল হায়দারকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফোন দিলে তিনি বলেন, একটি সেমিনারে ব্যস্ত আছি। একটি মামলার খবর তিনি অবগত হয়েছেন। এর বেশি তিনি বলতে চাননি।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পাথরঘাটা পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ইশরাত জাহান বলেন, মামলার বিষয় তিনি কিছুই জানেন না।
আরআই/টিকে