ইশতেহার বাস্তবায়ন না করার সংস্কৃতিতে ঢুকবে না এনসিপি : আসিফ

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা কোনো অবাস্তব কথা বলতে চাই না। বাংলাদেশে চলমান যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, কথা দিয়ে কথা না রাখতে পারার, যেই ইশতেহার দিয়ে সেটা বাস্তবায়ন না করতে পারার সংস্কৃতি, তার মধ্যে এনসিপি ঢুকবে না।’ আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে দলটির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই গণভুত্থানের পর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ম্যান্ডেট জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভুত্থান ছিল জনগণের স্পষ্ট বার্তা রাষ্ট্রকে আগের কাঠামোতে চালানোর বিপক্ষে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্য রাষ্ট্রের পুনর্গঠন এবং পুনর্বিন্যাস।

জাতীয় নাগরিক পার্টি বিশ্বাস করে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া স্থায়ী গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। সেকেন্ড রিপাবলিক কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি জবাবদিহিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অনেক ইশতেহার দেখে থাকি। একটা কমন বিষয় আমরা দেখি যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটা বেঞ্চমার্ক পাবলিশ হয়ে গেছে যে আমাদেরকে শিক্ষায় স্বাস্থ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলতেই হবে।

সেটা যতটুকু বাস্তব হোক কিংবা না হোক আমরা সেটা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছি। আমরা বাস্তবতার নিরীখে এই ইশতেহারের মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবতার ভিত্তিতে যতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব এবং যতটুকু আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি ততটুকুই বাংলাদেশের মানুষকে কথা দিতে চাই।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, এই ইশতেহার জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের ফল। জুলাই পদযাত্রা থেকে শুরু করে আমরা দেশের পথে প্রান্তরে গিয়েছি।

আমরা মানুষের কথা শুনেছি। মানুষ আমাদেরকে তাদের বক্তব্যগুলো দিয়েছেন। তাদের দাবিগুলো জানিয়েছেন। আমরা সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সাথে বসেছি। তাদের কথা শুনেছি।

বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর সাথে বসেছি। শ্রমিকদের নেতৃত্বের সাথে বসেছি। সকলের কথার ভিত্তিতে এই ইশতেহার তৈরি হয়েছে। ১২ টি অধ্যায়ের ৩৬ দফার অগ্রাধিকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত হয়েছে। এনসিপি এবং ১১ দলীয় ঐক্য ক্ষমতায় গেলে আইন, নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব।

আরআই/টিকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান Jan 30, 2026
img
গাজীপুরে নির্বাচনি এলাকায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন Jan 30, 2026
img
বিপিসির চেয়ারম্যান পদ থেকে ওএসডি, জ্বালানি খাতে নানা আলোচনা Jan 30, 2026
img
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই আমাদের অগ্রাধিকার: তারেক রহমান Jan 30, 2026
img
১৩ তারিখ নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে ১৮ কোটি মানুষ : জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img

প্রার্থীর বক্তব্য ভাইরাল

‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে আ’লীগকে রাজনীতির সুযোগ দেবেন’ Jan 30, 2026
img
সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে আগুন Jan 30, 2026
img
লন্ডনে বাউল উৎসব মাতালেন কণ্ঠশিল্পী শারমিন দিপু Jan 30, 2026
img
নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে প্রচারণায় বিরতি নিচ্ছেন মেঘনা আলম Jan 30, 2026
img
জামায়াত কখনোই বিএনপির সমান্তরাল কোনো রাজনৈতিক দল নয়: আবদুস সালাম Jan 30, 2026
img
মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ আটক ২১৮ Jan 30, 2026
img
আবহাওয়া নিয়ে আবারও নতুন বার্তা, কমতে পারে তাপমাত্রা Jan 30, 2026
img
ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প Jan 30, 2026
img
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষককে শোকজ Jan 30, 2026
img
দেশের সিংহভাগ মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়: প্রিন্স Jan 30, 2026
img
নিজের ছাড়া অন্যের ভোটের দিকে হাত না বাড়াতে সতর্ক করলেন জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img
ময়লার ভাগাড়ে বসে ইশতেহার ঘোষণা দিলেন ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান Jan 30, 2026
img
দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে ধানের শীষের বিকল্প নেই : আবু সুফিয়ান Jan 30, 2026
img
নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এক সুতাও যেন নড়চড় না হয়: ইসি সানাউল্লাহ Jan 30, 2026
img
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচ Jan 30, 2026