নির্বাচনী জনসভায় বাবার কথা বলে কাঁদলেন বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ
ছবি: সংগৃহীত
১০:০৩ পিএম | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফরিদপুরের নগরকান্দায় নির্বাচনী জনসভায় বাবার রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে ভোট চাইতে গিয়ে কেঁদেছেন বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু)। জনসভায় বক্তব্যের শুরুতে প্রায় তিন মিনিট তার চোখ থেকে পানি ঝরতে থাকে। এ সময় টিস্যু দিয়েও বার বার চোখ মুছতে থাকেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৫ টার দিকে নগরকান্দা উপজেলা সদরের মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এ ঘটনা ঘটে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগীয়) পদে রয়েছেন এবং ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) থেকে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করছেন। তার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান দক্ষিণবঙ্গের সিংহ পুরুষ নামে খ্যাত ছিলেন। তিনি দলটি থেকে তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হোন এবং একবার মন্ত্রিত্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৭ সালের ২১ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।
জনসভায় বাবার স্মৃতিচারণা করে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলতে থাকেন- ‘আমার আব্বা, ওবায়দুর রহমান ১৮ বছর হয়ে গেছে আমাদের ছেড়ে। আমার মনে আছে, এই যে আমার সামনে এত মানুষ; আমার আব্বার মৃত্যুর পরে আপনার প্রত্যেকে আমার কাছে আসছেন; আমার কাছে বলছেন- আপা, আমাদেরতো বটগাছটা নাই, আমরা কোথায় গিয়ে দাড়াব! ঢাকায় গেলে আমরা কার কাছে যাব! আমি আপনাদের কাছে থেকে সেদিন যে কথা শুনেছি, আমি তারপরে সিদ্ধান্ত নিছি- আমি আপনাদের ছেড়ে কোনোদিন যাব না। আমি আপনাদের বোন, আপনাদের সন্তান, আমার শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা আমাকে যতদিন হায়াত দিয়েছে আমি আপনাদের পাশে আছি, আপনাদের পাশে থাকব।
এ সময় ধানের শীষে ভোট চেয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমার আব্বা দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ মানুষের জন্য কাজ করেছেন, প্রতিদানে কখনও কিছু চান নাই, কখনও মানুষের কাছে কিছু চান নাই। কিন্তু উনি পেয়েছেন আপনাদের অপরিসীম ভালবাসা। এই ভালোবাসার প্রতিদান আমি দিতে চাই। আমি আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচন আপনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশ কোনপথে চলবে। বাংলাদেশ কার হাতে নিরাপদ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না, ভোটাধিকার থাকবে কি থাকবে না, উন্নয়ন হবে কি হবে না- সেটা ১২ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত হবে। এই নির্বাচনে কোনোভাবেই বাংলাদেশের মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।’
এছাড়া রাত ১২ টার পর থেকে গ্রাম পাহাড়া দেয়ার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘রাত বারোটা, একটার পর গ্রামে নাকি মানুষ ঢুকে, রাতে যারা ঢুকে তারা ভাল উদ্দেশ্যে ঢুকে না। আপনারা নিজ নিজ গ্রাম পাহাড়া দিবেন, ঘর পাহারা দেবেন। যদি আপনার এই বোন বিজয় লাভ করে তাহলে আমি একা সংসদে যাব না, আপনারা সবাই সংসদে যাবেন।’
এ সভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত শরীফ প্রমুখ।
এ জনসভায় দুপুর দুইটা থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান যোগে সমর্থক ও নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক সমর্থকদের সমাবেশ ঘটে।
এ আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলীর। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে লড়ছেন।
এসকে/টিএ