© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে পাকিস্তানের শর্ত, কি বলছে আইসিসি

শেয়ার করুন:
বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দিতে পাকিস্তানের শর্ত, কি বলছে আইসিসি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০২ পিএম | ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ছিল পাকিস্তান। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে ভারতে খেলতে যেতে চায়নি বাংলাদেশ।


আইসিসি শেষ পর্যন্ত তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আইসিসিকে শায়েস্তা করতে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পিসিবি। এতে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে তাদের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।


ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন।

বৈঠক শেষে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ডন-এর প্রতিবেদনে পিসিবির একাধিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার আগে পাকিস্তান সরকারের অনুমোদন নেওয়া হবে। এদিকে, ভারতের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে।

আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে আইসিসির আয় থেকে বাংলাদেশকে তাদের পূর্ণ অংশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশের জন্য বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দুই নম্বর দাবি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্য অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করতে হবে। শেষ দাবি, ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক হওয়ার অধিকার দিতে হবে বাংলাদেশকে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে আইসিসির আয় থেকে বাংলাদেশকে তাদের পূর্ণ অংশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা চাইলে বিষয়টি আইসিসির আরবিট্রেশন কমিটিতে তুলতে পারে অথবা বোর্ড সভায় আলোচনা করতে পারে। তবে ক্রিকেটের স্বার্থে দ্রুত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করাই যুক্তিযুক্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে পাকিস্তান সরকারের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি ‘সংহতির প্রতীক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এদিকে, আইসিসি পিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে, ‘ফোর্স মেজর’ দাবি করার আগে তারা কী ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (এমপিএ) অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইএসপিএন-ক্রিকইনফো জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিনেরও কম সময় আগে পিসিবি আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছিল, সরকারের নির্দেশেই তারা ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইসিসির সংবিধানে ‘ফোর্স মেজর’ কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট শর্ত, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং এর ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রভাব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আইসিসি পিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, ম্যাচ না হলে সংস্থাটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে আইসিসির হাতে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে।

তবে পিসিবির ধারণা, বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে গড়ালে তাদের অবস্থান বরং শক্ত। এ ক্ষেত্রে তারা অতীতের একটি ঘটনাকে সামনে আনছে। সেটি হলো পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার একটি পুরোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সংক্রান্ত বিরোধ, যা একসময় আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি) পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

পিএ/এসএন

মন্তব্য করুন