২ ঘন্টা পরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটপ্রদানের প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে ইসি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১২ পিএম | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ২ ঘন্টা পরপর ভোটপ্রদানের হার, আইনশৃঙ্খলার প্রতিবেদন সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পরিপত্র-১৭ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর বাসসের।
এতে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে, ভোট গণনার পর প্রিজাইডিং অফিসার হতে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র হতে প্রকাশ করা হবে। এই কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা হতে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, তাদের জন্য নির্ধারিত অঞ্চলের নাম ও নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট বা টেলিফোন নম্বর আলাদাভাবে জানানো হবে। উল্লিখিত তথ্যাদি প্রাপ্তির পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থাপিত ‘প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ হতে কোনো কর্মকর্তা ফলাফল প্রেরণ করবেন তা ভোটগ্রহণের দিনের পূর্বেই জানিয়ে দিতে হবে।
ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা ও ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন তাও পূর্বাহ্নে জানিয়ে দিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট নম্বর, টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না বা সচল আছে কিনা অথবা ইন্টারনাল সাইট/ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনাল অ্যাকাকাউন্ট ক্ষেত্র বিশেষে ই-মেইল যথাযথ কার্যকর আছে কি না তা যাচাই করে নেবেন।
ভোটগ্রহণ শেষে ‘বার্তা প্রেরণ শিট’-এর মাধ্যমে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রেরণ করার লক্ষ্যে নির্ধারিত নমুনা (পরিশিষ্ট-ক) ফরমে ক্রমপূঞ্জিত আকারে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইন্টারনাল সাইটে নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করতে হবে। ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে বার্তা প্রেরণে সমস্যা হলে অথবা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ই-মেইলে প্রেরণ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার সাথে নির্ধারিত টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রেরিত বার্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং দ্রুততার সাথে বার্তা প্রদানের জন্য টেলিফোন বা মোবাইলে যোগাযোগ করবেন। প্রতিটি বার্তা শিটে রিটার্নিং অফিসার নিজে স্বাক্ষর করবেন। কোনো কারণে রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করতে না পারলে আংশিক ফলাফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অথবা দায়িত্বশীল অন্য কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বার্তা প্রেরণ করতে পারবেন।
এজন্য অবশ্যই উক্ত কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িত করে ভোটগ্রহণের পূর্বেই (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করতে হবে। তবে চূড়ান্ত বার্তা শিট অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরে প্রেরণ করতে হবে এবং আরএমএস এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপলোড করতে হবে।
প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ এবং গণভোটের বেসরকারি ফলাফল যথাযথভাবে প্রাপ্তির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে ইএমএস সফটওয়্যার এর ফলাফল ব্যবস্থাপনা/গণভোট ফলাফল ব্যবস্থাপনা মডিউল ব্যবহার করতে হবে। উল্লিখিত সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণের জন্য প্রযোজনীয় সংখ্যক জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া এই সফটওয়্যারে এক্সেস করার জন্য ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের ঠচঘ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য জেলা/উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সরবরাহকৃত গ্রামীণ এবং টেলিটকের সীম সম্বলিত মডেম ব্যবহার করবেন। এর বাইরে ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণা কেন্দ্রে লোকাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং অফিসার তার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রি করার জন্য দুইজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। প্রতি ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ফলাফল এন্ট্রি করার জন্য ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার এবং নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জগঝ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার এবং প্রিন্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কেএন/টিকে