© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মিমির জন্মদিনে স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন নুসরাত

শেয়ার করুন:
মিমির জন্মদিনে স্মৃতির ঝাঁপি খুললেন নুসরাত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪৪ এএম | ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বন্ধুত্বের সম্পর্ক কখনও কখনও রক্তের সম্পর্ককেও ছাপিয়ে যায় এমন এক আবেগঘন স্বীকারোক্তিতেই প্রিয় বান্ধবী মিমি চক্রবর্তীর জন্মদিনে খোলা চিঠি লিখলেন নুসরাত জাহান। দীর্ঘ দিনের সহকর্মী, সহযাত্রী আর রাজনৈতিক মঞ্চের সহকর্মী এই দুই অভিনেত্রীর বন্ধুত্ব নিয়ে নানা সময়ে নানা গুঞ্জন উঠলেও নুসরাতের লেখায় উঠে এল একেবারে ভিন্ন ছবি অভিমান আছে, দূরত্ব আছে, কিন্তু ভাঙন নেই।

নুসরাতের কথায়, তাদের বন্ধুত্বের শুরু হয়েছিল একটি ছবির শুটিং ঘিরে। নাচের মহড়া, আউটডোর শুটিং, একই ঘরে সময় কাটানো সেইসব দিনগুলো ধীরে ধীরে দুই অভিনেত্রীকে পরিণত করে ছায়াসঙ্গীতে। একসঙ্গে খাওয়া, ঘোরা, কেনাকাটা, সিনেমা দেখা জীবনের প্রায় প্রতিটি ছোট মুহূর্তে তারা ছিলেন একে অন্যের পাশে। এমনকি ব্যক্তিগত গোপন কষ্ট কিংবা আনন্দও ছিল ভাগাভাগির বিষয়। বন্ধুত্বের উষ্ণতায় গড়ে উঠেছিল এক আলাদা নির্ভরতা।

বিদেশের শুটিংয়েও সেই সখ্যের রেশ ছিল স্পষ্ট। তীব্র রোদে শুটিং শেষে হোটেলে ফিরে টমেটো কেটে ত্বকের যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে গভীর রাতে চুপিচুপি বেরিয়ে প্যানকেক খাওয়া স্মৃতির ঝুলি যেন ভরা অগণিত ছোট ছোট দুষ্টুমি আর হাসির গল্পে। নুসরতের ভাষায়, মিমির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক সাহসী, প্রতিবাদী আর একই সঙ্গে ভীষণ মিষ্টি মানুষ, যাকে বাইরে থেকে বোঝা যায় না।



তবে এই বন্ধুত্বেও ঝড় এসেছে। ঝগড়া হয়েছে, কথা বন্ধ থেকেছে, অভিমান জমেছে। তবু দিনের শেষে আবার হাসি, আবার আলিঙ্গন সেই জায়গাটাই নাকি তাদের সম্পর্কের আসল শক্তি। সময়ের সঙ্গে দু’জনের জীবনেই এসেছে পরিবর্তন, ব্যস্ততা, সংসার আর দায়িত্ব। তবুও নুসরাতের বিশ্বাস, প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনও মরে না, কেবল দূরত্বের আড়ালে কিছু সময়ের জন্য লুকিয়ে থাকে।

অভিনয়ের জগত ছাড়িয়ে রাজনীতির মঞ্চেও পাশাপাশি হাঁটেছেন তারা। একই সময়ে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়া, সংসদ ভবনে একসঙ্গে যাতায়াত এই সবই বন্ধুত্বকে দিয়েছে অন্য মাত্রা। নুসরতের মতে, মিমিকে বুঝতে হলে সময় দিতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ তার ভেতরের মানুষটি বাইরের চেহারার চেয়ে অনেক গভীর।

বন্ধুর জন্মদিনে তাই শুভেচ্ছার চেয়ে দায়িত্ববোধই যেন বড় হয়ে উঠেছে নুসরাতের লেখায়। বহু ভাল-মন্দ সময়ের সাক্ষী এই সম্পর্ককে আগলে রাখার অঙ্গীকারই করেছেন তিনি। টলিউড যাদের ডাকে ‘বোনুয়া’ নামে, সেই বন্ধুত্বই আজও অটুট এই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার আবেগঘন কথায়।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন