© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নিজে ভোট দিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট চাইলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

শেয়ার করুন:
নিজে ভোট দিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট চাইলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১৩ পিএম | ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপির মনোনয়নে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। দোর্দণ্ড প্রতাপে এই আসনটিতে ছিল তার একচ্ছত্র আধিপত্য। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেলেও তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপির দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরে গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার তিনি ভোট প্রদান করে ফেসবুকে দুটি পোস্ট করেছেন। পোস্টে তিনি ট্রাকের পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, ‘দেবিদ্বার মাটি ও মানুষের নেতা আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জরুল আহসান মুন্সি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়েছেন। দেবিদ্বারের জনগণকে ট্রাক মার্কায় ভোট দেওয়া নির্দেশনা দিয়েছেন।’
 
নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়ার দুঃসংবাদের মধ্যেই মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি  বক্তব্য ভাইরাল হলে গত মঙ্গলবার রাতে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার তাকে আদালতেও তলব করা হয়। ভোটে না থেকেও এভাবে দেশব্যাপী আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে ট্রাক প্রতীকের পক্ষে প্রচারকালে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৫৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাঁকে ভোটারদের উদ্দেশে হুমকি দিতে শোনা যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, ‘আমি কথাটা পরিষ্কারভাবে বলছি, আপনারা মনে করবেন না ভয় দেখাচ্ছি। কথা আপনারা রেকর্ড করে ছেড়ে দিতে পারেন, আমার অসুবিধা নাই। ক্ষমতায় যদি বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য কাউকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের ছাড়ব না। ঘরবাড়ি সব পোড়াইয়া ছারখার করে দেব।’ যদিও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেছেন, তাঁর বক্তব্য খণ্ডিত করে প্রচার করা হয়েছে।

ভাইরাল বক্তব্য তাঁর প্রতিপক্ষ এনসিপি নেতা হাসনাতের লোকজন ‘এআই’ দিয়ে তৈরি করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে এই আসনের জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মনোনয়ন হারানোর আগে ও পরে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রকাশ্যেই ভোটার ও তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর অনেক বক্তব্য দিয়েছেন। যা সব সামাজিক মাধ্যমেও আছে। হাসনাতের ভাষ্য, রাজনীতি করতে এসে ভোটার ও অন্য দলের প্রার্থী নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এমন অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য এবং হুমকি দেওয়া নির্বাচন আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।
 
 গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার আদালতে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুমের কাছে সশরীর হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া শেষে সেখান থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মঞ্জুরুল আহসানের নিয়োগ করা আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেজবাহ। এ সময় আইনজীবী দাবি করেন, ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যটি তাঁর মক্কেল দেননি। তা এডিট করা।

এদিকে মঙ্গলবার দলের সব পদ থেকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কারের পর রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তারের গুজব ওঠে। যদিও পরে এর সত্যতা মেলেনি। এই আসনে বিএনপির দুটি গ্রুপ। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। আরেক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর চাচাতো ভাই এএফএম তারেক মুন্সী। তারেক কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব। মঞ্জুরুল আহসানকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তারেক গ্রুপের অনুসারীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

তারেক মুন্সী জানান, মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া এবং তাঁর আপত্তিকর বক্তব্য দলের অনেক বড় ক্ষতি করেছে। তবুও দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বলেছেন তিনি। দলকে সংগঠিত করতে হবে।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী রাতে বলেন, তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ও দল থেকে বহিষ্কার করা পর্যন্ত একটি বড় চক্র কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে এই দেশে শুধু আমিই ফেরত দেইনি? অন্য আরও অনেক প্রার্থী তো আমার মতো অভিযুক্ত ছিল। তারা উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পেলেও আমি কেন পেলাম না।’

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন