কুয়েট ভিসির বাসভবন ঘেরাও, অবাঞ্ছিত ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৯ পিএম | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. মাকসুদ হেলালির বাসভবন ঘেরাও করে সাক্ষাতের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া এবং সাক্ষাৎ না করায় তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কুয়েট ক্যাম্পাসের ভিসির বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
কুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. মাকসুদ হেলালি জানান, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কুয়েটের ছাত্রদল নেতা সাফওয়ান আহমেদ ইফাজ কুয়েট কর্মচারী সাইফুল ও ইমদাদ মোড়লসহ ১৫/২০ জনকে নিয়ে তার বাসভবনের সামনে আসেন। তারা ভিসির সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে হইচই করেন। ভিসি শারীরিকভাবে অসুস্থ বিধায় তাদের অফিস টাইমে সাক্ষাৎ করতে বলে পাঠালে তারা উত্তেজিত হয়ে ব্যাপক হট্টগোল করেন।
তাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য ৫ মিনিট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নিরাপত্তাহীন বোধ করায় তিনি পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফোন করেন।
পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় ওইসব শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অংশটি। ব্যানারে ‘আওয়ামী দোসর আলমগীরের সহযোগী ভিসি ড. মো. মাকসুদ হেলালিকে কুয়েট ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো— ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ লেখা ছিল।
এ ব্যাপারে কুয়েটের ইসিই বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সাফওয়ান আহমেদ ইফাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। তিনি দেখা না দিয়ে লুকোচুরি করেন। দায়িত্ব নিয়ে আসার শুরু থেকেই ছাত্রদের সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে। আমাদের কোনো সমস্যা, সংকটে তার সহযোগিতা পাইনি। আওয়ামী দোসর হিসেবে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
কেএমপির খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ভিসির অপসারণ চেয়ে দুটি ব্যানার সেঁটে দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেই পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছেন। তবে বাসভবনে তালা মারার কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা কোনো ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি না তাও তিনি জানেন না।
এবি/টিএ