© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে কারচুপির অভিযোগ অলি আহমদের

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে কারচুপির অভিযোগ অলি আহমদের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১২ পিএম | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ভোট কারচুরির অভিযোগ এনেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় এমন অভিযোগ করেন তিনি। নিজের কর্মী-সমর্থকদের সুশৃঙ্খলভাবে দিন কাটানো এবং কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাটি না করারও অনুরোধ জানান তিনি।

ওই আসনে এবার ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুককে প্রার্থী করেছিলেন অলি আহমদ। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ওমর ফারুক নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে ১ হাজার ২৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

অলি আহমদ বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় কারচুপি হয়েছে। আমরা পরাজিত হইনি। পরাজিত হয়েছে আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণ। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি বিকেল ৪টার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় কারচুপি হয়েছে। বিশেষ করে তিনটি জায়গায়। হাসিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাসিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান হাই স্কুলে সাড়ে ৪টার পরে অপরিচিত কয়েকশ লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে। হয়তো ওখানে যারা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পনা ছিল এভাবে কাজ করার জন্য। তারা অনেকগুলো ব্যালট পেপার সেখানে ডুকিয়ে দিয়েছেন।’

এলডিপির সভাপতি বলেন, ‘এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা ছিলেন, আড়াইটা-৩টার পর থেকে আমাদের যারা নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত ছিলেন, তাদের পিটিয়ে বের করে দিয়েছে। প্রশাসনকে বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের যারা কাজ করছিলেন, তাদের মারপিট করেছে। অন্যদিকে জসিম ৬-৭টা মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন এবং সন্ধ্যার আগে-পরে প্রায় ৩০-৪০টা মাইক্রোবাস, ট্রাক নিয়ে মিছিল করে উপজেলা সদরে এসেছেন।’

বিপক্ষের জয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অরি আহমদ বলেন, ‘আর্মি ক্যাম্প ছিল, থানা ছিল, প্রশাসন ছিল, তাকে (জসীম) বারণ করেনি। তারা (জসীমের কর্মী) উপজেলা হেডকোয়ার্টারে এসে তছনছ করেছে। আমার কর্মীদের আমি অনেক কষ্ট করে সুশৃঙ্খল রাখার চেষ্টা করেছি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যারা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা একতরফাভাবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় ছাতা প্রতীকের এজেন্টদের সাড়ে ৪টার পর বের করে দিয়েছেন। এছাড়াও ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য করেছে। আমাদের এজেন্টরা যখন এটা চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের এগুলো দেখানো হয়নি। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করার জন্য ব্যবস্থা করেছে।’

তিনি বলেন, ‌‌‘আপনারা যদি মনে করেন প্রফেসর ওমর ফারুক পরাজিত হয়েছে, ড. কর্নেল অলি আহমদ পরাজিত হয়েছে, আমরা পরাজিত হইনি। আল্লাহর মেহেরবানি, আমার নবীর দয়া, মুক্তিযুদ্ধ কখনো পরাজিত হয় না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কখনো পরাজিত হয় না। পরাজিত হয়েছে- টাকা এবং আমার নির্বাচনি এলাকার কিছু লোক।’

প্রশাসন নীরব রয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এখন কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে আমাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে, প্রশাসন নীরব। প্রশাসনের উচিত দুই দিন এলাকায় বসে প্রত্যেকটি জায়গায় পেট্রোলিং করা। কোনো স্থানে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা দেখা। তারা এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সুতরাং ওমর ফারুকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রার্থী, যারা এক থেকে দেড় হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন, এটা সুপরিকল্পিতভাবে, অত্যন্ত সুক্ষভাবে এ কাজটা করা হয়েছে।’

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন