নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যারা থাকতে পারেন
ছবি: সংগৃহীত
১১:২৩ পিএম | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান এটা প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার কত বড় হবে এবং কারা থাকছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে নবীন প্রবীণ মিলিয়ে হচ্ছে এবারের মন্ত্রি পরিষদ।
সংসদ সদস্যদের শপথের পরই শুরু হবে মন্ত্রিত্ব বন্টন। সেই মন্ত্রিত্বের ডাক পেতে পারেন বিএনপির নবনির্বাচিত উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের কয়েকজন। বিশেষ করে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান এবং দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে এমন সংসদ সদস্যদের ডাকবেন তারেক রহমান।
বিএনপির একটি সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। দলের জন্য তার দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল। বিএনপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তিনি দলটির হাল ধরেছিলেন দেশে। আইনমন্ত্রীর জন্য ডাক পাবেন ঝালকাঠি থেকে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান। তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী। আইনি ব্যাখ্যা ও সংবিধান বিশ্লেষণে তার অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। অর্থমন্ত্রীর জন্য রেজা কিবরিয়া। যিনি হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত ও বিশ্বমানের অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারক। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এ একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পররাষ্ট্রে টেকনোক্র্যাট কোটায় হুমায়ুন আহমেদ। এর আগে তিনি বিএনপি'র আন্তর্জাতিক সম্পাদকীয় পদে ছিলেন। দলটির বৈশ্বিক সম্পর্কে উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন তিনি। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবার গুরুত্ব পাচ্ছে। এই মন্ত্রণালয় থেকে বিএনপির নির্বাচন প্রতিশ্রুত আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হতে পারে। এই মন্ত্রণালয়ে ডাক পেতে পারেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিত। নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজসেবা তথা পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী নিয়ে দেশে-বিদেশে কাজের জন্য নন্দিত তিনি। তাকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে এমন আলোচনা আছে।
তিনি হাজার হাজার মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নায়ক। ৪টি দেশে তিনি সমাজসেবামূলক কাজ এবং বাংলাদেশে ১১টি চক্ষু হাসপাতাল ও মা-শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২৮টি দেশের ৮০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি বিশাল নেটওয়ার্কের (GLM-CPR) নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁর রয়েছে বিরল প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা।
এছাড়া অভিজ্ঞদের মধ্যে যাদের নাম জানা যাচ্ছে তারা হলেন স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাসকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অথবা সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয় দেখা যেতে পারে সালাহউদ্দিন আহমদকে।
পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিতভাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শামা ওবায়েদ সহ বেশ কয়েকজন।
যদিও বিএনপি'র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার আকার ও চেহারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা বা সরকারের আকার ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় 'অনেকটাই ছোট' হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সিনিয়র নেতারা।
এক্ষেত্রে গঠন ও আকৃতিতে পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যাও কমিয়ে ত্রিশের নিচে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে বিএনপি।
মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনার ফলে একদিকে সরকারের 'কাজ যেমন সহজ হবে', তেমনি 'স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা'ও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে দলটি।
বিএনপি'র নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপে এমনটাই জানা গেছে।
নিজ দলের বাইরে ভোটে জয় পাওয়া সমমনা অন্য দলগুলোর নেতাদের মধ্যেও অনেকে সেই মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন বলে আভাস দিয়েছেন বিএনপি'র সিনিয়র নেতারা।
এছাড়া, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে স্থায়ী কমিটি এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় নয়া মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালযয়ে রুহুল কবির রিজভী (টেকনোক্র্যাট), স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নাম বিবেচনায় আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন আলোচনায় রয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে সবচেয়ে দক্ষ এবং যোগ্য মনে করা হচ্ছে ডক্টর এম এ মুহিতকে । তাকে তারেক রহমান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী করতে পারেন এবং জোরালো আলোচনাও রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জ থেকে নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য কাজ করছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, ড. রেজা কিবরিয়া ও মাহমুদুর রহমান মান্নাকেও।
টিকে/