নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত
১২:০০ এএম | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, প্রাণহানিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বাগেরহাটেও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কুমিল্লা, সিলেট, নরসিংদী, ফেনী, গাজীপুর, নাটোর, ঝালকাঠি, নড়াইল, পাবনা, বগুড়া, ফরিদপুর, বরগুনা, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলায় হামলার ঘটনায় প্রায় ২ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, এটি শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং মানব মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মৌলিক দায়িত্বের অংশ।
এই অবস্থায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন অবিলম্বে তৃণমূল পর্যায়ে কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়, যাতে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক সহিংসতা, হামলা, দখল, ভীতি প্রদর্শন বা নারী নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনো সহিংসতা বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতা দিতে পারে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়াও বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি প্রতিটি ঘটনা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে যৌন সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
এসকে/টিএ