সন্তানরাই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক : শাহরুখ খান
ছবি: সংগৃহীত
০৩:২৭ পিএম | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বলিউডের শাহরুখ খানকে আমরা সাধারণত দেখি পর্দার ঝলমলে আলোয়। কিন্তু ক্যারিয়ারের উত্থান–পতন, দীর্ঘ বিরতি আর নতুন করে ফিরে আসার গল্পের ভেতরে তিনি যে একজন পারিবারিক মানুষ সেটাই সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে তুলে ধরলেন অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সন্তানরাই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। পরিবারই আমার নর্থ স্টার, যারা আমাকে মাটিতে পা রেখে চলতে শেখায়।’
২০১৮ সালে ‘জিরো’ ছবির ব্যর্থতার পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, শাহরুখ খানের তারকাখ্যাতির যুগ শেষের দিকে। সেই সময়ই তিনি কাজ থেকে বিরতি নেন। এক বছরের পরিকল্পিত বিরতি পরে মহামারির কারণে চার বছরে গড়ায়। কিন্তু সেই বিরতিই যেন তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরিবারকে সময় দেওয়া, সন্তানদের সঙ্গে কাছাকাছি থাকা এসবই তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে। এরপরই আসে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’।
শাহরুখ বলছেন, সাফল্য কেবল ক্যারিয়ারের অর্জনে মাপা যায় না। বরং সন্তানদের সঙ্গে গড়ে ওঠা স্মৃতি, পরিবারের কাছ থেকে শেখা মূল্যবোধ এসবই তাঁর আসল উত্তরাধিকার। ‘কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও বাবা হয়ে থাকার ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে আমি হারাতে চাই না,’ বলেন তিনি।
পরিবারের সঙ্গে এই সংযোগের একটি বিশেষ দিক উঠে এসেছে ‘দ্য লায়ন কিং’–এর মাধ্যমে। ২০১৯ সালে চলচ্চিত্রটির রিমেকে তিনি মুফাসার কণ্ঠ দেন, আর ছেলে আরিয়ান খান প্রথমবার ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন সিম্বা চরিত্রে। পরে ছোট ছেলে আব্রাম খানও এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হন।
শাহরুখ জানান, সন্তানদের সঙ্গে একই প্রজেক্টে কাজ করা তাঁর জন্য ছিল এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমি ওদের কিছু শিখিয়েছি ঠিকই, কিন্তু ওদের কৌতূহল আর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে অনেক কিছু নতুন করে দেখতে শিখিয়েছে।’

কন্যা সুহানা খানের সিনেমায় পথচলা, আরিয়ানের নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ সবকিছুই তাঁকে একজন গর্বিত বাবায় পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘ওদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের পথ তৈরি করতে দেখা আমার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
শাহরুখের কথায় বারবার ফিরে আসে ‘লিগ্যাসি’ বা উত্তরাধিকার প্রসঙ্গ। তাঁর কাছে উত্তরাধিকার মানে শুধু সিনেমার সাফল্য নয়, বরং সন্তানদের স্বাধীনভাবে বড় হতে দেওয়া। নিজের বাবাকে অল্প বয়সে হারানোর স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি সন্তানদের পথ দেখাতে চান, কিন্তু নিজের মতো করে চলার স্বাধীনতাও দিতে চান।
এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে শাহরুখের জীবনের আরেকটি আবেগঘন স্মৃতি-মুম্বাইয়ে প্রথম আসার সময়ের অনিশ্চয়তা। দিল্লি থেকে স্বপ্ন নিয়ে আসা এক তরুণ হিসেবে তিনি সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ভাবতেন, ভবিষ্যৎ কোথায়। আজ বহু বছর পর সেই একই সমুদ্রের সামনে দাঁড়ানো ‘মান্নত’ প্রাসাদ যেন তাঁর দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক। শাহরুখের ভাষায়, ‘সমুদ্র মানুষকে নম্র হতে শেখায়।
বুঝিয়ে দেয়, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার দরকার নেই।’
সম্প্রতি ডিজনি ক্রুজ লাইনের ‘দ্য লায়ন কিং’–এ কণ্ঠ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খোলা সমুদ্রের ওপর ভেসে থাকা মানুষ যখন তাঁর কণ্ঠ শুনবে—সেটা তাঁর কাছে যেন এক বিশেষ “সার্কেল অব লাইফ” মুহূর্ত।
এমকে/টিএ