© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

শেয়ার করুন:
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৩২ পিএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে ঐতিহাসিক এক রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ‘বিদ্রোহে নেতৃত্ব’ দেয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রায় ঘোষণা করে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। রায়টি আসে ইউন ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারির ৪৪৩ দিন পর।

আদালত বলেছে, ইউন সুক ইওল ছিলেন ‘বিদ্রোহের নেতা’। তার সামরিক আইন জারি, জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) ক্ষমতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা এবং ডিক্রি কার্যকর করতে পদক্ষেপ নেয়া—এসবই সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ক্ষুণ্নের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে।

আদালতের মতে, এসব পদক্ষেপ আইনি সংজ্ঞায় ‘ইনসারেকশন’ বা বিদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বিশেষ কৌঁসুলি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। দক্ষিণ কোরিয়ার ফৌজদারি আইনে বিদ্রোহে নেতৃত্বের শাস্তি তিনটি—মৃত্যুদণ্ড, সশ্রম যাবজ্জীবন অথবা বিনাশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

বিশেষ কৌঁসুলিদের দাবি, সাংবিধানিক শর্ত পূরণ না থাকা সত্ত্বেও ইউন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের—যাদের মধ্যে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীও ছিলেন—সঙ্গে যোগসাজশ করে সামরিক আইন জারি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সামরিক আইন প্রত্যাহারে ভোট ঠেকাতে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের আটক করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তাদের ভাষায়, সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার এবং সংসদ ভবন ঘেরাও করার চেষ্টা—এসবই বিদ্রোহের আইনি মানদণ্ড পূরণ করে।

ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটি ছিল রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার বৈধ প্রয়োগ এবং জাতীয় সংকট সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করার পদক্ষেপ। নিজের চূড়ান্ত বক্তব্যে ইউন বলেন, এটি সরকার উৎখাতের চেষ্টা নয়, বরং ছিল সতর্কবার্তা ও জনসচেতনতার আহ্বান।

এই মামলার মূল প্রশ্ন ছিল—সামরিক আইন জারি কি ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিতে ‘বিদ্রোহ’ এর পর্যায়ে পড়ে? অর্থাৎ সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ভাঙার অভিপ্রায় ও জনশৃঙ্খলা বিপন্ন করার মতো বলপ্রয়োগের প্রমাণ রয়েছে কি না। আদালত রায়ে বলেছে, উভয় উপাদানই এখানে প্রযোজ্য।

এটি অনেকের কাছে নির্বাহী ক্ষমতার সীমা বনাম সংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট চুন দো হাওয়ানকে ১৯৮০ সালের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলন দমনের ঘটনায় প্রথম বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। পরে আপিলে তা যাবজ্জীবনে রূপ নেয় এবং ১৯৯৭ সালে তিনি ক্ষমা পান। সেই নজিরের পর আবারও সাবেক এক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের রায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে বড় ঘটনা হয়ে থাকল।

রায় ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে ইউন সমর্থকদের বিক্ষোভ দেখা যায়। তারা খালাসের দাবি জানান। অন্যদিকে বিরোধীরা রায়কে ‘সংবিধান রক্ষার বিজয়’ বলে অভিহিত করেন। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে এই রায় যে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ঐকমত্য দেখা যাচ্ছে।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন