প্রয়াত বিখ্যাত কৌতুকশিল্পী উত্তম দাস, শোক প্রকাশ প্রসেনজিতের
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৬ পিএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বাংলা কৌতুকমঞ্চে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী উত্তম দাস। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হাসির জাদুতে দর্শকদের মাতিয়ে রাখা এই শিল্পীর প্রয়াণে স্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল অট্টহাসির ঢেউ, আর মাইক্রোফোন হাতে নিলেই যেন বদলে যেত পরিবেশ।
আশির দশকে যখন টেপ-রেকর্ডারের যুগ, পাড়ায় পাড়ায় জলসার আসর, বিজয়া সম্মিলনীর সন্ধ্যা সেই সময়ের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন উত্তম দাস। তাঁর কণ্ঠ, বাচনভঙ্গি আর নিখাদ হাস্যরস দর্শককে বেঁধে রাখত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। উপস্থাপক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। গ্রাম থেকে শহরতলি সব জায়গাতেই তাঁর ডাক পড়ত নিয়মিত। অনেকের কাছেই উৎসব মানেই ছিল উত্তম দাসের অনুষ্ঠান।
মঞ্চের সাফল্যের পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর একাধিক অডিও সংকলন। ‘হাসির মালপোয়া’ এবং ‘হাসির হেডলাইট’ নামের সংকলনগুলি একসময় ঘরে ঘরে বাজত। নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের প্রতিভা আর পরিশ্রমে যে জায়গা তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ নিজের শক্তিতে অর্জিত।

তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন টলিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, উত্তম দাস মঞ্চে উঠলেই যেন জাদু সৃষ্টি করতেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের এক প্রতিভা। মানুষটি চলে গেলেও তাঁর কাজ ও স্মৃতি চিরকাল থেকে যাবে। এই বার্তাতেই স্পষ্ট, প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিল্পীদের কাছে কতটা শ্রদ্ধার আসনে ছিলেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদনের ধরন বদলেছে, বদলেছে মাধ্যম। তবুও উত্তম দাসের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। তাঁর কৌতুক ছিল নির্মল, পারিবারিক আসরে উপভোগ্য। তাই বাঙালির উৎসবের আবহে তিনি ছিলেন এক অপরিহার্য নাম।
আজ তাঁর প্রয়াণে যেন হাসির মঞ্চ কিছুটা নীরব। কিন্তু যে মানুষ সারাজীবন হাসি বিলিয়েছেন, তাঁর স্মৃতি রয়ে যাবে অগণিত দর্শকের হৃদয়ে। বাংলা কৌতুকজগতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পিআর/টিএ