ছেড়ে দেওয়া হলো সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৬ এএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ব্রিটিশ রাজা চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটির স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহারের অ্যান্ড্রুকে হেফাজতে নেয় দেশটির পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের কাছে সরকারি গোপন নথি পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে এ প্রিন্সের বিরুদ্ধে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ৬৬ বছর বয়সে পা রাখেন মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর। নিজের জন্মদিনে থ্যামস ভ্যালি পুলিশের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। চলতি মাসের শুরুর দিকে পুলিশ জানিয়েছিল, অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করার সময় যৌন অপরাধীর কাছে নথিপত্র হস্তান্তর করেছিলেন তিনি।
সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা এ জ্যেষ্ঠ রাজপরিবারের সদস্যের গ্রেফতার আধুনিক সময়ে নজিরবিহীন। ব্রিটিশ রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেন, “অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের খবরটি আমি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জেনেছি।”
একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে পূর্ব ইংল্যান্ডের আইলশাম পুলিশ স্টেশন থেকে বের হতে দেখেছি। ওই সময় কয়েকজন ফটোগ্রাফার ও সম্প্রচার মাধ্যমের লোককে দেখতে পেয়েছি।
মুক্তির পর তোলা রয়টার্সের একটি ছবিতে প্রিন্সকে একটি গাড়ির ভেতরে বসা অবস্থায় দেখা যায়। তাকে দৃশ্যতই বিচলিত মনে হচ্ছিল। থ্যামস ভ্যালি পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তদন্তাধীন অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
অ্যান্ড্রুর গ্রেফতারের বিষয়টি আগে থেকে জানানো হয়নি ব্যাকিংহাম প্যালেসকে। চার্লস বলছেন, “কর্তৃপক্ষ আমাদের পরিবারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা পাবে। আমি একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমার পরিবার এবং আমি আপনাদের সবার প্রতি আমাদের কর্তব্য ও সেবা অব্যাহত রাখবো।”
বৃহস্পতিবার লন্ডনের একটি ফ্যাশন শো দেখতে যান চার্লস। সেখানে তিনি কোনও ধরনের মন্তব্য করেননি।প্রয়াত রানি এলিজাবেথের দ্বিতীয় ছেলে মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের জন্য তিনি অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে অ্যান্ড্রুর অফিস থেকে কোনও ধরনের মন্তব্য করা হয়নি। এপস্টেইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি।
১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া অ্যান্ড্রু ছিলেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপের দ্বিতীয় সন্তান। বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হলেও অ্যান্ড্রু সামরিক পেশা বেছে নেন। রয়্যাল নৌবাহিনীতে ২২ বছর কর্মরত থাকার সময় ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে অংশ নেন। পরে ২০০১ সালে তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক ব্রিটেনের বিশেষ প্রতিনিধি করা হয়।
বর্তমান তদন্তের সূত্রপাত সেই সময়ের কর্মকাণ্ড থেকে। সম্প্রতি প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অ্যান্ড্রু সরকারি নথি এপস্টেইনের কাছে সরবরাহ করেছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ২০১১ সালে তাকে ওই পদ ছাড়তে হয়। ২০০৮ সালে এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌনকর্মে প্ররোচিত করার দায়ে এপস্টেইন কারাদণ্ড ভোগ করেন।
২০১৯ সালে এপস্টেইন পুনরায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর অ্যান্ড্রু বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকার দেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতি না দেখানো এবং অবিশ্বাস্য ব্যাখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এর পরপরই তিনি সব ধরনের সরকারি দায়িত্ব ও দাতব্য কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
২০২১ সালে এপস্টেইনের এক ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নিউইয়র্কের আদালতে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের। অ্যান্ড্রু অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার সামরিক উপাধি ও রাজকীয় দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়। পরে অঘোষিত অর্থের বিনিময়ে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। জিউফ্রে ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করেন।
গত বছর প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু পূর্বে স্বীকার করার চেয়ে দীর্ঘ সময় এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এরপর রাজা তৃতীয় চার্লস তার ভাইয়ের রাজকীয় উপাধি, সম্মাননা এবং উইন্ডসরের বাসভবন প্রত্যাহার করেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পরও অ্যান্ড্রু ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন।
এসএস/এসএন