শুল্ক বাতিলের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, দিলেন বিকল্প ক্ষমতা প্রয়োগের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৯ এএম | ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক আমদানি শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত প্রচেষ্টা বাতিল করে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এমন রায়ে বেশ ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে বিশ্বজুড়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বক্তব্যে তিনি জানান, আদালতের রায়ের পর বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ ভোটে দেয়া রায়ের পরপরই শীর্ষ আদালতের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আদালতের কয়েকজন সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত, একেবারেই লজ্জিত। দেশের জন্য সঠিক কাজ করার সাহস তারা দেখাতে পারেননি।’
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যেসব বিদেশি দেশ বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে এসেছে, তারা এখন খুব খুশি। তারা রাস্তায় নাচছে। কিন্তু এই আনন্দ বেশিদিন থাকবে না, এটা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি।’
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জবাবে শুক্রবারই একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সব দেশের ওপর বিদ্যমান শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, এটি হবে আদালতের রায়ের আইনি সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার একটি উপায়।
এছাড়া তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী নতুন করে একাধিক বাণিজ্য তদন্ত শুরু করা হবে। এই ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এমন দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে, যাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক, অন্যায্য কিংবা বৈষম্যমূলক বাণিজ্য চর্চার অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ওদের সিদ্ধান্ত ভুল। তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ এই রায়েই আমাদের জন্য আরও শক্তিশালী বিকল্প পথ উন্মুক্ত হয়েছে।’
সুপ্রিম কোর্টের ৬–৩ রায়ের ফলে ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিগত হাতিয়ার বড়ভাবে সীমিত হয়ে গেল। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার প্রথম বছরজুড়েই তিনি বিভিন্ন দেশকে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে বাধ্য করতে শুল্ককে প্রধান চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রেও শুল্ককে চাপ সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন তাকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। তবে, আদালত ট্রাম্পের সেই যুক্তি নাকচ করে দেয়।
ট্রাম্প এই রায়কে ডেমোক্র্যাট বিচারপতিদের সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বাস্তবে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে ছয়জন রক্ষণশীল বিচারপতি এই শুল্ক বাতিলের পক্ষে রায় দেন।
ওয়াশিংটন ডিসি প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সবকিছু পড়ে দেখেছি এবং ভেবেছিলাম এই মামলায় হারার প্রশ্নই নেই। কিন্তু যখন বিচারকরা রাজনৈতিক হয়ে ওঠেন, যখন তারা রাজনৈতিক শুদ্ধতার খাতিরে সিদ্ধান্ত নেন কিংবা ডিসির কিছু গোষ্ঠীর তোষামোদ করেন, তখন এমনটা হয়।’
তবে প্রেসিডেন্টের নতুন কৌশল সাংবিধানিকভাবে টিকে থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে যে, সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের পক্ষে লিখে বলেন, ‘সংবিধান প্রণেতারা কর আরোপের কোনো ক্ষমতাই নির্বাহী শাখার হাতে দেননি।’
তবে ট্রাম্প দাবি করেন, নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হবে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারার আওতায়। এই আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও গুরুতর বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়, তবে তা হবে সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য।
সূত্র: আনাদোলু
কেএন/টিএ