ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের পর ‘পাবলিক টয়লেট’ ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৮ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এসময় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সেটিকে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের এক নেতার নেতৃত্বে এ কার্যাক্রম চালানো হয়।
এতে নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
পরে পুলিশ সদস্যরা এসে দলটিকে সরিয়ে দেন। এর আগে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি এই কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টার পর ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মো. আয়াস। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শ্রমিকসহ চারজন ব্যক্তি। শ্রমিকেরা কলাপসিবল গেটের পাশে থাকা একটি জানালা ভেঙে ফেলেন। অপর জানালাটির কিছু অংশ ভাঙা হয়।
এসময় ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচির একটি ব্যানারে ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া কার্যালয়টির সামনে একটি টায়ারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেওয়া হয়।
এদিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সেখানে একদল পুলিশ গিয়ে টায়ারের আগুন নিভিয়ে কার্যালয়টি ভাঙা বন্ধ করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের তোপের মুখে পড়েন আল নূর।
কার্যালয়টি ভাঙার কারণ হিসেবে আল নূর মো. আয়াস বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দোসররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রেদোয়ান হোসেনকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের যেসব ভাইয়ের রক্তে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা হবে না। একই সঙ্গে কার্যালয়টি অফিশিয়ালি টয়লেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘যত দিন পর্যন্ত বাংলার মাটিতে খুনিদের বিচার না হবে, তত দিন পর্যন্ত এই খুনিদের কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না। আমরা খুনিদের মারতে চাই না, আইন অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা নিতে চাই। প্রশাসন অবশ্যই যেন সে ব্যবস্থা করে।’
ভাঙচুর বা নাশকতামূলক কোনো কার্যক্রমে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ভাঙচুর থেকে বিরত করা হয়। যারা ভাঙচুর করেছে আমরা তাঁদের তথ্য নিচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমআই/এসএন