© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বাতাস থেকেই বিশুদ্ধ পানি, নোবেলজয়ীর বিস্ময়কর আবিষ্কার!

শেয়ার করুন:
বাতাস থেকেই বিশুদ্ধ পানি, নোবেলজয়ীর বিস্ময়কর আবিষ্কার!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫২ পিএম | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ঘূর্ণিঝড় কিংবা দীর্ঘ খরায় যখন বিদ্যুৎ ও পানির মূল সরবরাহ লাইন ভেঙে পড়ে, তখন সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েন উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলের মানুষ। সেই সংকট মোকাবিলায় বাতাস থেকেই বিশুদ্ধ পানি তৈরির যুগান্তকারী যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন ২০২৫ সালের রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ওমর ইয়াগি। তাঁর দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি হতে পারে জীবনরক্ষাকারী সমাধান।

অধ্যাপক ইয়াগির প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাটোকো জানিয়েছে, প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারের সমান আকারের এই যন্ত্র খুব নিম্নমাত্রার তাপশক্তি ব্যবহার করে চলতে সক্ষম। ঘূর্ণিঝড় বা খরার কারণে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও লোকালয়ে বসিয়ে প্রতিদিন এক হাজার লিটার পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন করা যাবে।

এই প্রযুক্তির মূল ভিত্তি ‘রেটিকুলার কেমিস্ট্রি’—পদার্থকে আণবিক স্তরে নতুন বিন্যাসে সাজিয়ে এমন উপাদান তৈরি করা, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে এনে পানিতে রূপান্তর করতে পারে। মরুভূমির মতো শুষ্ক পরিবেশেও এটি কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানী।

অধ্যাপক ইয়াগি বলেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলের খরাপ্রবণ দ্বীপগুলো এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বেরিল ও মেলিসার মতো দুর্যোগের পর হাজার হাজার মানুষ সুপেয় পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে গ্রেনাডার ক্যারিয়াকো ও পেটিট মার্টিনিক দ্বীপে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির পর পানি সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।

ক্যারিয়াকোর পরিবেশকর্মী ডেভন বেকার মনে করেন, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বাইরে থেকে সাধারণ তাপমাত্রা ব্যবহার করে পানি উৎপাদনের এই পদ্ধতি তাদের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। বর্তমানে খরার মৌসুমে মূল ভূখণ্ড থেকে পানি আমদানি করতে হয়, যা ব্যয়বহুল এবং দূষণের ঝুঁকিও বাড়ায়।

সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করে ইয়াগি বলেন, ওই প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট ঘন লবণাক্ত পানি সমুদ্রে ফেললে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন যন্ত্রে সেই ঝুঁকি নেই, কারণ এটি সরাসরি বাতাসের আর্দ্রতা ব্যবহার করে।

বিশ্বব্যাপী পানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আবিষ্কার এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। সম্প্রতি জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্ব এখন বৈশ্বিক পানি দেউলিয়াত্বের যুগে প্রবেশ করেছে। প্রায় ২২০ কোটি মানুষ এখনো নিরাপদ পানির বাইরে, আর ৩৫০ কোটি মানুষের নেই স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা।

জর্ডানের এক উদ্বাস্তু শিবিরে বেড়ে ওঠা ইয়াগির শৈশব কেটেছে চরম পানি সংকটে। সপ্তাহে একবার পানি এলে পাত্র ভরে রাখার স্মৃতি আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। সেই অভাবই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে, যা দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের কাছে টেকসই সমাধান পৌঁছে দিতে পারে।

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, গবেষণার স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, বিজ্ঞান আমাদের হাতে রয়েছে, এখন প্রয়োজন সাহস ও সদিচ্ছা—যাতে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া যায়।

এমকে/টিএ

মন্তব্য করুন