ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নিজার আমেদি
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৭ এএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন নিজার আমেদি। শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পার্লামেন্টের এক বিশেষ অধিবেশনে দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে এই অভিজ্ঞ কুর্দি রাজনীতিক ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন।
ইরাকের পার্লামেন্ট স্পিকার হাইবত আল-হালবুসি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজার আমেদিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত আমেদি ২২৭টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসান্না আমিন পান মাত্র ১৫টি ভোট। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক শপথ গ্রহণ করেন আমেদি।
৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি রাজনৈতিক দল ‘প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান’ (পিইউকে)-এর একজন প্রভাবশালী নেতা। পেশায় প্রকৌশলী আমেদি এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ইরাকের তিনজন সাবেক প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ইরাকের ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট পদটি কুর্দি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। গত বছরের নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কুর্দি দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঝুলে ছিল। আমেদির এই নির্বাচন ইরাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আমেদি। তিনি বলেন, 'দেশের সামনে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের মাত্রা সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন।' তিনি সরকারের তিনটি শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার এবং 'ইরাক ফার্স্ট' (সবার আগে ইরাক) নীতিতে অবিচল থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
পাশাপাশি, ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরাকে হওয়া বিভিন্ন হামলার তীব্র নিন্দা জানান নবনির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগ পর্যন্ত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় ইরাকি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হলেও এখন সবার চোখ দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দিকে। ইরাকের প্রচলিত সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট কুর্দি হলেও পার্লামেন্ট স্পিকার সুন্নি এবং প্রধানমন্ত্রী হন শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।
ইরাকের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া দলগুলোর জোট 'কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক' গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আল-মালিকিকে দায়িত্ব দিলে ইরাকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন, যা দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
পরবর্তী ধাপ সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আমেদি এখন ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন। মনোনীত ব্যক্তিকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করে পার্লামেন্টের আস্থা অর্জন করতে হবে।
ইউটি/টিএ